কুমিল্লার পূজা মণ্ডপের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবক ইকবাল হোসেন এতদিন কোথায় ছিলো- এমন প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ইকবাল নামে একজন অপ্রকৃতিস্থ এবং মাদকসেবীকে ধরা হয়েছে। এই ইকবাল এতদিন কোথায় ছিলো? কারা তাকে সেখানে নিলো?’

তিনি বলেন, ‘সরকার একেক সময় একেকটা বিভাজন তৈরি করছে। সেই বিভাজনে একেক সময় একেকটাকে সামনে নিয়ে আসে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, বিপক্ষের শক্তি। এখন তারা ধর্মীয় বিভাজনে নেমে পড়েছে। দেশের মূল সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে আওয়ামী লীগ সরকার এটা করছে।’

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি তার ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ এই সমাজে কোনো মানুষের নিরাপত্তা দিতে না পারা সরকারের চরম ব্যর্থতা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন, মুসিলম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, খৃষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন- এটাই তো বাংলাদেশ। কিন্তু সরকার কী করছেন? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। শুধুমাত্র মানুষের দৃষ্টিটা, মানুষের মনোযোগকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার এই বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আমরা ভোট দিতে পারি না, আমরা কথা বলতে বলতে পারি না, আমাদের অধিকারগুলো নেই, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে এসে একটা সাম্প্রদায়িক সংকট, সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করছে সরকার।’

দেশের অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের মানুষ দুঃসহ অবস্থার মধ্যে বাস করছে। একদিকে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। চাল, তেল, লবণ, চিনির দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি। যার ফলে মানুষ গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে আর আওয়ামী লীগের লুটেরারা ধনী থেকে ধনী হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যেখানে যাবেন- ছাত্র ভর্তি করতে যাবেন দুর্নীতি, আপনি হাসপাতালে যাবেন দুর্নীতি, আপনি একটা বিচারালয়ে যাবেন সেখানে দুর্নীতি। কোথায় দুর্নীতি নেই। আজকে দুর্নীতি এই সমাজকে একেবারে ক্ষয় করে ফেলেছে, নষ্ট করে ফেলেছে।’

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে জনগণের ঐক্য সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে সরকার হটানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় জামায়াতে ইসলামী শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির একাংশের শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জাগপার একাংশের খন্দকার লুৎফুর রহমান প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।