জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ১২ বছর ধরে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় আছে। তারা সবার সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার সময় হয়েছে। এই সরকারকে সরাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সবাইকে শরিক থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে। আজ দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেও তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতন করছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই একনায়ক সরকারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার সময় হয়েছে। ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে আমাদেরকে ফের রাস্তায় নেমে গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আ স ম আবদুর রব বলেন, আজকে তরুণ-যুবকদের যুদ্ধে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমরাও এ বয়সে যুদ্ধ করেছিলাম। আপনারা কেউ রাস্তায় এই সরকারের বিরুদ্ধে নামলে আমি মরতে রাজি আছি। দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেছে আওয়ামী লীগ। তারাই প্রথম দেশে মার্শাল ল জারি করেছিল। বর্তমানে কাউকে না কাউকে মার খেতে হবে, জেলে যেতে হবে। তা না হলে হবে না। স্বৈরাচার বিদায়ের জন্য দরকার জাতীয় ঐক্য।

তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আওয়ামী লীগ দেশকে আজ মগের মুল্লুকে পরিণত করেছে। নৈতিকভাবে ধ্বংস করেছে। সর্বস্তরে লুটপাট চলছে। সব প্রতিষ্ঠানে দখলদারিত্ব চলছে। সবকিছু শেষ করে দিয়েছে তারা। অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে আজকে অঘোষিত বাকশাল চলছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি প্রয়োজন। ঘরে বসে মিষ্টি কথা বলে লাভ নেই। সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় না নেমে কোনো স্বৈরাচারের পতন করা সম্ভব নয়। দেশ এভাবে চলতে পারে না। এ সংকট নিরসনের জন্য জাতীয় সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যেখানেই যাই; সবাই বলে- এ সরকার কবে যাবে? কারণ এ সরকারের জ্বালায় অতিষ্ঠ সবাই। দেশে এখন স্লোগান উঠেছে জাতীয় সরকারের। আগে এই সরকারের পতন হবে। তারপর একটা জাতীয় সরকার হবে।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, বিষাক্ত একটা দলে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ। তারা দেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে দাঁড়াতে দিতে চায় না। তারা জনগণকে ভয় পায়। তাই তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চায় না। আমি বলি- দেশে জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচন হোক। দেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।

জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির নেতা অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কেএম জাবির, সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশাররফ হোসেন, এসএম সামছুল আলম নিপন, তৌফিকুজ্জামান পীরাচা প্রমুখ।