সরকার দেশে বিরাজনীতিকরণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, এজন্য দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নির্মূল করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সঙ্কুচিত করে ফেলছে। 

রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়াপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অভিযোগ করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একটি দোয়া মাহফিলে থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে জরুরি এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করেছে। ১৫৪ জনকে বিনা ভোটে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে একই রাজনৈতিক দলটি রাতের আঁধারে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এভাবে তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আবার যখন সামনে নির্বাচন আসছে তখন ২০১৮ সালের মতো একই কায়দায় বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে। ওই সময়েও সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মী এমনকি প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়।’

এর আগে দুপুরে রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকায়  নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসা থেকে দলটির প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। 

বিএনপির নেতারা বলছেন, সুমনের মা দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, গোপন বৈঠক থেকে তাদের আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিখোঁজ সুমনের ছোট বোন সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘আমার অসুস্থ মাকে দেখতে এসেছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বাসায় দোয়া মাহফিল চলছিল। হঠাৎ পুলিশ আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে নিয়ে গেছে। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক আমাদের বাসায় ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি তেজগাঁও থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।’

তেজগাঁও থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, ‘১২ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’