বিদ্রোহ থামছেই না আওয়ামী লীগে। দলের কড়া নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছেই। বিএনপিতেও গৃহদাহ থেমে নেই। স্থানীয় নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপা, নীলফামারী, পাবনার বেড়া, নোয়াখালীর সেনবাগ, লক্ষ্মীপুর, রংপুরের পীরগঞ্জ, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচনে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ছিল এসব পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ২৮ নভেম্বর এগুলোতে নির্বাচন হবে।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড এই ৯টি পৌরসভায় মেয়র পদে দলের একক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ পৌরসভাতেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে দল থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্তেও তাদের অবস্থান নড়চড় হচ্ছে না। বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা করছেন না। এ নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গলাচিপা পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বর্তমান মেয়র আহসানুল হক তুহিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক মামুন আজাদ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক জুলহাস সিকদার। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নাজমুল হুদা রিপন।
নীলফামারী পৌরসভায়ও বিদ্রোহের আগুনে পুড়ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। দলের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন নুরুজ্জামান বুলেট। তিনি জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই পৌরসভায় গৃহদাহ বিএনপিতেও। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা দু'জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
পাবনার বেড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অবস্থা রীতিমতো নাকাল। এই পৌরসভায় প্রার্থী ছয়জন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম আসিফ শামস্‌ রনজন। তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। তারা হচ্ছেন- বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক পৌরসভা মেয়র আবদুল বাতেন, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ এইচ এম ফজলুর রহমান মাসুদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ডা. আবদুল আউয়াল, বেড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম সাদিয়া আলম এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক কে এম আবদুল্লাহ।
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভায়ও আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ থেমে নেই। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবু জাফর টিপু। তিনি সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আবু নাসের দুলাল (ভিপি দুলাল) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মুজিবুল হক বাবলু।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় স্বামীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন স্ত্রী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঞার বিরুদ্ধে লড়বেন তার স্ত্রী সাহেলা পারভীন। মাসুম ভূঞা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক। তবে তার স্ত্রী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঞার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এ কে এম বদরুল আলম ও জহির উদ্দিন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাকির আল মামুন ও আবদুর রহিম।
রংপুরের পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু ছালেহ মোহাম্মদ তাজিমুল ইসলাম শামীম। আরও তিনজন প্রার্থী এই পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা হচ্ছেন- জাতীয় পার্টির জাইদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মিয়া ও স্বতন্ত্র সাইদুর রহমান।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান খান শহীদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিনি এই পৌরসভার বর্তমান মেয়র। পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মনজুরুল হক মনজু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সাবেক মেয়র। এই দুই প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন আরেকজন সাবেক মেয়র আবদুর রশিদ মিয়া।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভায় প্রার্থী দু'জন। তারা হচ্ছেন কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল এবং পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত না থাকায় মুজিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ মনসুরুল হক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া মধু। তিনি এই পৌরসভার বর্তমান মেয়র।

বিষয় : আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ

মন্তব্য করুন