ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। বিশ্ববাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম কমছে। দেশেও দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনার সময় এসেছে। আশাকরি সরকার এটি দেখবে। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফরে অর্জন তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। 

তিনি বলেন, করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ২০২২ সাল নাগাদ সময় লেগে যাবে। দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে রপ্তানিতে যেসব ক্রয়াদেশ এসেছিল সেগুলোর উৎপাদন খরচ এখন তুলনামূলক বেশি পড়বে। এতে রপ্তানিকারকরা আর্থিক  ক্ষতির মুখ পড়বে। কঠিন এই মূহুর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হবে।

জসিম উদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দামের বিষয় টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। ডলারের দামের মত জ্বালানি তেলের দাম উঠানামা করে। তাই যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম যে হারে বাড়বে ঠিক সেই হারে স্থানীয় বাজারে বাড়ানো উচিত। আবার যখন যেই হারে কমবে ঠিক সেই হারে দাম কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো কিছুর দাম বাড়লে তা কমার সংস্কৃতি কম। তাই জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে বলে আশাকরি। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এম এ মোমেন ও আমিনুল হক শামীম প্রমুখ।