সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশপাশের লোকজন সব বিএনপি ও তার পরিবারের। স্লো পয়জনিং যদি করা হয়েই থাকে, তাহলে তার পাশের লোকরাই তা করতে পারেন। এখানে আওয়ামী লীগকে জড়ানো হচ্ছে কেন?

শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। বৈঠক থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে বেসরকারি গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ সময় বলেন, মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়াকে নাকি স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। এখন তার পাশে থাকেন মির্জা ফখরুলরাই। তাকে যিনি খাওয়ান, তিনি তার পরিবারের লোক। তার আশপাশে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরাও করেন বিএনপির লোকেরা। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কেউ তার পাশে থাকে না। তার ব্যক্তিগত পছন্দের চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, তাহলে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য বিএনপির লোকরাই স্লো পয়জনিং করছেন কি? অথবা সে রকম কিছু করবেন বলেই কি উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন? শেখ হাসিনা কেন হুকুমের আসামি হবেন? হুকুমের আসামি হলে ফখরুল সাহেব কিংবা বিএনপি নেতারাই হবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে খালেদা জিয়া যে সুবিধা নিচ্ছেন, সেটা প্রধানমন্ত্রীর উদারতার কারণেই। বিএনপি নেতারা তার জন্য এখন এত মায়াকান্না কাঁদেন, কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করেন! তার জন্য দেখবার মতো কার্যকর ও অর্থবহ একটা মিছিলও রাজপথে করার দুঃসাহস বিএনপির ছিল না। সেটা তারা দেখাতেও পারেনি।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কোনো দায় নেই। এর দায় বিএনপি ও মির্জা ফখরুলদেরই নিতে হবে। তার চিকিৎসার নামে কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।\হসেতুমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব বড় বড় কথা বলেন। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, কারও চিকিৎসার নামে জনগণকে জিম্মি করা যাবে না। কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশবিরোধী এই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রতিহত করতে সারাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক নিয়মনীতির মধ্যে যতটুকু সম্ভব তার সবটুকু সুযোগ খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। হতে পারেন খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী; কিন্তু আইনের চোখে তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বর্তমান পরিচয় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর উদারতাকে প্রতিহিংসা বলতে দ্বিধা করছেন না।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে মাহবুবউল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ওয়াসিকা আয়শা খানম, দেলোয়ার হোসেন, শাম্মী আহমেদ, আমিনুল ইসলাম আমিন, সায়েম খান প্রমুখ অংশ নেন।