ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

ছিটকে গেলেন ৭৩১ প্রার্থী

ছিটকে গেলেন ৭৩১ প্রার্থী

.

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০১:২৭ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৭:১৮

জাতীয় সংসদের ভোটের মাঠে নেমে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াতেই আটকে গেলেন ৭৩১ প্রার্থী। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন অন্তত পাঁচজন। আছেন বর্তমান সংসদের ছয় সংসদ সদস্যও (এমপি)। টানা চার দিনের বাছাইয়ে ৩০০ সংসদীয় আসনের ২ হাজার ৭১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৯৮৫ জনকে নির্বাচনে যোগ্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আজ থেকে ইসিতে আপিলের সুযোগ পাবেন। 

ইসি বেশ কয়েকজন সাবেক এমপির মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছে। ঢাকার দুই সিটি ও জেলার ২০ সংসদীয় আসনেই বাতিল হয়েছে ৭৮টি মনোনয়নপত্র। সারাদেশের ৬৬টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুক্রবার শুরু হয়ে গতকাল সোমবার শেষ হয় বাছাই প্রক্রিয়া। প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের সামনে বাছাই করা হয় মনোনয়নপত্র। অধিকাংশ মনোনয়নপত্র বাতিলের মূল কারণ ছিল ঋণ ও বিলখেলাপি, অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ দাখিল। শুধু ঋণ খেলাপের দায়েই বাতিল হয়েছে ১১৮ জনের মনোনয়নপত্র। 

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া আওয়ামী লীগের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৩ মো. নাসিরুল ইসলাম খান, কক্সবাজার-১ সালাহউদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী-৩ মো. মামুনুর রশীদ কিরন, বরিশাল-৪ শাম্মী আহমেদ ও ঝালকাঠি-১ আসনের বজলুল হক হারুন। তবে ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ফলে একজনেরটি বাতিল হলেও ওই আসনে নৌকা থাকছে। এবার ২৯৮ আসনে মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছিল ক্ষমতাসীন দলটি। পাঁচটি আসনে তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন নৌকাশূন্য আসনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬।
ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার। আজ থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নেবে ইসি। এর পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিশনের উপস্থিতিতে শুনানি হবে। ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। 

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। এর তিন সপ্তাহ পর ৭ জানুয়ারি হবে ভোট। এর আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। নির্বাচনী প্রচারের জন্য ১৯ দিন সময় রাখা হয়েছে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করতে হবে। অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালানোর সুযোগ থাকছে।

আজ থেকে আপিল: আপিল জমার জন্য এরই মধ্যে নির্বাচন ভবনে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ১০ কর্মকর্তার কাছে আপিল আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ইসির আইন শাখার উপসচিব মো. আব্দুছ সালাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত পাঁচ দিনের প্রতিদিন ১০০ করে আপিল শুনানি হবে ক্রমানুসারে।
ইসি সূত্র জানায়, আপিল আবেদনগুলো শুনানি শেষে আপিলের ফল মনিটরে প্রদর্শন, রায়ের পিডিএফ কপি, আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইলে এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া আপিলের রায়ের অনুলিপি নির্দিষ্ট শিডিউল অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। 
মো. আব্দুছ সালাম বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণাদেশের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ আজ থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে) নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি আকারে (আপিলের মূল কাগজপত্র এক সেট ও ছায়ালিপি ছয় সেট) আপিল করতে পারবেন।

ঢাকা বিভাগ
ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ৭০টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৬৭৩টি। এর মধ্যে ১৫০টি বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজন হেভিওয়েটও রয়েছেন। 
নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪৫ জন। এর মধ্যে সাতজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে ৩২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ঋণখেলাপির জামিনদার হিসেবে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। 

কিশোরগঞ্জে ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫৪ জন। বাতিল হয়েছে নৌকার এক প্রার্থীসহ ১৬ জনের মনোনয়ন। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সংসদ নির্বাচন করতে করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-১-এ মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলামের (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনি মৃত ভোটারের সই কারসাজি করেছিলেন।
মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৩ জন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির তিনজনসহ মোট ১২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।  নরসিংদীর পাঁচটি আসনে ৪৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের বাতিল হয়েছে। টাঙ্গাইলের আটটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৭১ জন। তাদের মধ্যে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গাজীপুরের পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪৪ জন। তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 

ফরিদপুরের চারটি আসনে ২৬ জন মনোনয়ন জমা দেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রাজবাড়ীর দুটি আসনে ১৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গোপালগঞ্জে তিনটি আসনে ২২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ছয়জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

মাদারীপুরের তিনটি আসনে ১৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে দু’জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আহমেদ আলী। শরীয়তপুরে তিনটি আসনে ২২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দু’জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহমেদ।

ঢাকা জেলার ২০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২০৪ জন। তাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৭৮ জনের। ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালমান এফ রহমান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলামসহ মোট ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও দলের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের, আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জাতীয় পার্টির আরেক প্রার্থী সালমা ইসলামসহ ১১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। দুই আসনের মধ্যে এক আসনে প্রার্থী হবে সালমা ইসলাম।

চট্টগ্রাম বিভাগ 
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় আসন ৫৮টি। মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪৪০ জন। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে ১৪৮ জনের বিপরীতে বাতিল হয়েছে ৩২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম মোতালেব রয়েছেন।
কক্সবাজারে চারটি আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে বাতিল হয়েছে ৯ জনের। এ ছাড়া একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। ঋণখেলাপির কারণে কক্সবাজার-১ আসনে নৌকার প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ ও কক্সবাজার-৪ আসনে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির ছেলে দাবি করা স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসহাকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। 
কুমিল্লায় ১১টি আসনের ১২১ প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে ২৩ জনের। মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায় রয়েছেন কুমিল্লা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু।

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৪৩ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন রয়েছেন।
ফেনীতে তিনটি আসনে ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ১৭ জনের মনোনয়নপত্র। ঋণখেলাপি হওয়ায় ফেনী-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহরিয়ার ইকবাল, ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনাগাজী আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ জেড এম কামরুল আনাম এবং জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল কবির রিন্টুর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪৩ জন। তাদের মধ্যে বাতিল হয়েছে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর আগে রোববার নোয়াখালী-৪ আসনেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। একই আসনে ১ শতাংশ ভোটারের সই তালিকায় গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সাত্তার পলোয়ানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এদিকে এক শতাংশ ভোটারের সই তালিকায় গরমিল থাকায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পবনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে ৫৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে বাতিল করা হয়েছে ১০ জনের মনোনয়নপত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ফিরোজুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনে ৫৫ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমান সংসদ সদস্যসহ ১৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি আসনের চার প্রার্থীর মধ্যে দু’জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটি আসনের পাঁচজন ও বান্দরবানের তিন প্রার্থীকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ
রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৩৬৯ জন। তাদের মধ্যে বাতিল করা হয়েছে ১১০টি মনোনয়নপত্র। রাজশাহীতে ছয়টি আসনে ৬০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের মধ্যে ২২টি বাতিল হয়ে যায়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের স্ত্রী আয়েশা আখতার ডালিয়াসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। তবে মনোনয়নবঞ্চিত রাজশাহীর তিন এমপির স্বতন্ত্র প্রার্থিতা বৈধতা পেয়েছে।

বগুড়ার সাতটি আসনে ৮৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে ২৯টি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়াদের মধ্যে আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম আছেন।
পাবনার পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৩৭ জন। এর মধ্যে তিনটি বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়াদের মধ্যে পাবনা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডলি সায়ন্তনীর ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপির অভিযোগ আছে।

নাটোরের চারটি আসনে ৪৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় বাতিল করা হয়েছে ১২টি মনোনয়নপত্র। বাতিল হওয়া প্রার্থীর মধ্যে জমি বিক্রি করে মনোনয়নপত্র তোলা গ্রাম পুলিশ সদস্য এসকেন আলীও (স্বতন্ত্র) আছেন।
সিরাজগঞ্জে ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৪৩ জন। তাদের মধ্যে সমকালের সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরুসহ ১৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

নওগাঁর ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৫৫ জন। বাতিল হয়েছে ২২টি মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী আছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
জয়পুরহাটের দুটি সংসদীয় আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগ
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি আসনে ৩২২টি মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ৯৪টি বাতিল করা হয়েছে। খুলনার ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫৩ জন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাগেরহাটের চারটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩০ জন। ৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। নড়াইলের দুটি আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১৬ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মাগুরার দুটি আসনে ১৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বাতিল হয়েছে ৩ জনের প্রার্থিতা। যশোরের ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঝিনাইদহের চারটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৪ জন। ৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২০ জনের মধ্যে ১৩ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। কুষ্টিয়ার চারটি আসনে ৪৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে বৈধ প্রার্থী ২৯ জন। মেহেরপুরের দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে ৮ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

বরিশাল বিভাগ
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১৭০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। 
বরিশাল জেলায় মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫৫ জন। বাতিল হয়েছে ১০ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ। একই আসনে বর্তমান এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসনটিতে অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে মুক্তিজোটের মো. আসাদুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ভোলায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তিনজনের। ঝালকাঠিতে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি বজলুল হক হারুন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এম মনিরুজ্জামান মনির। 
পিরোজপুরে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে পাঁচজনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন– পিরোজপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, তৃণমূল বিএনপির ইয়ার হোসেন রিপন। বরগুনায় মনোনয়নপত্র জমা দেন ২২ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। পটুয়াখালীতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৮ জন। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চারজনের।

সিলেট বিভাগ
সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হতে ১৬০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ৩২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৪৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্রের প্রমাণপত্রে নিজে নিজে সই করায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 
সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে ৪১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মৌলভীবাজারের চারটি আসনে ৩২ জনের মধ্যে ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রহিম শহীদ রয়েছেন। হবিগঞ্জের চারটি আসনে ৪০ জনের মধ্যে ৩৬ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

রংপুর বিভাগ
রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩ আসনে ২৭৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ৬৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
রংপুর জেলার ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪৯ জন। এর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দিনাজপুরের ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩৪ জন। তাদের মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। লালমনিরহাটের তিনটি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২৭ জন। আটজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জন। কুড়িগ্রামের চারটি আসনে মোট ৩৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের দুটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২০ প্রার্থী। যাচাই-বাছাইকালে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে ২০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। দু’জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নীলফামারীর চারটি আসনে ৩৭ মনোনয়নের বিপরীতে ১০ জনের বাতিল হয়েছে। গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৫২ জন। ১৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ২৪টি সংসদীয় আসনে ২০২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৫৬ জনের মনোনয়নপত্র। 
ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের ১০৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ২০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনসূচক তালিকা ত্রুটিপূর্ণ থাকায়। জামালপুরের পাঁচটি আসনে ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নেত্রকোনা-৫ আসনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও নেত্রকোনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নব্বইয়ের গণআন্দোলনের অন্যতম নেতা শফী আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শেরপুরের তিনটি আসনে ২২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিরা]

 

আরও পড়ুন

×