রাজধানীতে পানির দাম ‘এক পয়সাও’ বাড়েনি বলে দাবি করেছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচলক তাকসিম এ খান। তিনি বলেছেন, ২০১০ সালের মূল্যস্ফীতি আর এখনকার মূল্যস্ফীতি তুলনা করলে দেখা যাবে ‘প্রকৃত মূল্যে’ পানির দাম এক পয়সাও বাড়েনি। তবে আপতদৃষ্টিতে দেখলে পানির দাম অনেক বেড়েছে।

শনিবার কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তাকসিম এ খান। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকা ওয়াসা রোল মডেল। ২০০৯ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর 'ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা' কর্মসূচির কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচলক বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজধানীতে পানি সরবরাহে বেশ ঘাটতি ছিল। তখন দৈনিক ১৮৮ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হতো। গভীর নলকূপ ছিল ৫১৯টি। বর্তমানে ৯০৬টি গভীর নলকূপ এবং পাঁচটি পানি শোধনাগারের মাধ্যমে নগরবাসীর পুরো পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। সিস্টেম লস ৪০ থেকে ২০ শতাংশে নেমেছে। পরিচালন ব্যয় কমেছে ২৬ শতাংশ। রাজস্ব আয় ৪৪০ কোটি থেকে হয়েছে ১৮০০ কোটি টাকা। রিয়েল টাইম অনলাইন ব্যবস্থা চালুর ফলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই বিল দেখতে ও জমা দিতে পারছেন।

তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। করোনা মহামারি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় অপরিবর্তিত রাখা গেছে। গত অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে প্রতিষ্ঠানটি জমা দিয়েছে এক হাজার ১২ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৭০ কোটি টাকা বেশি। গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পানি সরবরাহ সংক্রান্ত ২৬ হাজার ১৩১টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পন্ন হয়েছে ২৫ হাজার ৯২১টি। সুয়ারেজ সংক্রান্ত এক হাজার ৮৪৮টি অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ৮৩০টি নিষ্পন্ন হয়েছে। রাজস্ব সংক্রান্ত চার হাজার ২২৬টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পন্ন হয়েছে তিন হাজার ৫১৬টি। স্থানীয় সরকারের অধীন ২০টি সংস্থা ও দপ্তরের মধ্যে মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৮ দশমিক ২৭ পেয়ে ঢাকা ওয়াসা প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার রায়, পরিচালক আবুল কাশেমসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।