তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে মুরাদ হাসানের পদত্যাগের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার নারী নেত্রীরা।

অডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাতে ঢাবির সুফিয়া কামাল হল ও শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের নেত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে হলে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেন। হল দুটির সাধারণ শিক্ষার্থীরাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। 

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করেন, তারা কখনোই এই ধরনের মানসিকতা ধারন করতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু যেখানে বীরঙ্গনা নারীদের পিতার নামের জায়গায় তার নাম লিখতে বলেছিলেন, নারীদের ১০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছেন, এমন অবস্থানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন ব্যক্তি এই ধরনের বিকৃত মানসিকতা ধারন করতে পারেন- এটা আমরা আশা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম মুরাদ হাসান এই বক্তব্যের জন্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং পদত্যাগ করবেন। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। এজন্য আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। তাকে যদি সাংবিধানিকভাবে আরও কোনো শাস্তি দেওয়া যায়, তাহলে আমরা সে শাস্তিকেও স্বাগত জানাব।’ 

ঢাবি ছাত্রলীগের আরেক সহ-সভাপতি ও শামসুন নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা বলেন, ‘মুরাদ হাসান তার অপরাধের জন্যে দলীয়ভাবে যেই শাস্তি পাওয়া দরকার, সেটি তিনি পেয়েছেন। খুব সম্ভবত তার সংসদ সদস্যের পদ চলে যাবে। এটি শুধু আওয়ামী লীগেই সম্ভব। অপরাধী নিজ দলের হলেও প্রধানমন্ত্রী তাকে ছাড় দেন না। অন্য কোনো দলে এই চর্চা নেই।’ 

এরআগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অশালীন মন্তব্য করেন মুরাদ হাসান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলিয়াস সিজার তালুকদার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগের বিষয়ে তারা তদন্ত শুরু করবে।