বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানোয় দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘আলালের মামলা প্রত্যাহারের দাবি প্রমাণ করে, বিএনপি অশোভনীয়তাকে ইন্ধন ও প্রশ্রয় দেয়।’

গত ৮ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা আলালের বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি মামলার আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূরউদ্দীন আহমেদ।

তার অভিযোগ, গত ৬ ডিসেম্বর তিনি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া আলালের বক্তব্যের একটি ভিডিও দেখেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের আদালতে মামলার আবেদন করেন শরীয়তপুর সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক শামসুল আলমের আদালত তা আমলে নিয়ে আলালের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

বিএনপি নেতারা এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানালে তাদের সমালোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতা আলালের বিরুদ্ধে অশালীন এবং অশোভন বক্তব্য দেয়ার কারণে যে মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব প্রমাণ করেছেন, তাদের দলের নেতারা যে অশোভন, অশালীন কথা বলছেন, এগুলো তাদের ইন্ধনেই বলছেন এবং সেগুলোকে তারা প্রশ্রয় দেন, না হয় বিএনপি মহাসচিব সে দাবি করতে পারতেন না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ এর ৪২তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচার হলে জনগণ মেনে নেবে না।

এর জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে যে নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে, দেশের ইতিহাসের পাতায় যে কালিমা লেপন করেছে সেগুলো কালো অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তার মতো খালেদা জিয়াও হত্যাকারীদের পুণর্বাসন করেছেন, বঙ্গবন্ধুর এক হত্যাকারীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর তারা বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার সময়ে আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার পুত্রের পরিচালনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। আমাদের দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। তার নেতৃত্বেই দেশে অগ্নিসন্ত্রাস-অগ্নিবোমার রাজনীতি হয়।’

খালেদা জিয়া কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলেই তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি আলোচনায় আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম জিয়া আদালতে দণ্ডিত আসামি। তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করার প্রসঙ্গ আসবে। তিনি ক্ষমা চাইলে রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করতে পারেন, নাও করতে পারেন। তিনি ক্ষমা চাওয়ার পরে এ প্রসঙ্গটি আসবে।’