যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত না দেয়ার বিষয়টিকে দেশটির ‘ভূরাজনৈতিক হিসেবে-নিকাশের’ প্রতিফলন বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। 

নেতারা বলেছেন, ঢাকা-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে তৃতীয়পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। বন্ধু দেশগুলোর কাছে সব বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরার পদক্ষেপ নিতে হবে। 

সোমবার ১৪ দলের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রে ‘গণতন্ত্র সম্মেলন’- এ বাংলাদেশকে দাওয়াত না দেয়া এবং র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রেক্ষাপটে জরুরি এই সভার আয়োজন করা হয়।   

সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে জঙ্গিবাদ নির্মুল করা হয়েছে। এই জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ নারীপাচার ও মাদক চোরচালান রোধে যে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবদান, সেই সংস্থা র‌্যাবকে কেন এভাবে আঘাত করা হচ্ছে- সেটা বোধগম্য নয়। তবে আজ বঙ্গোপসাগর নিয়ে যে বলয় সৃষ্টি হয়েছে, সেই বলয়ে বাংলাদেশ অন্তর্ভূক্ত না হওয়ার কারণেই এই চাপ প্রয়োগ হচ্ছে বলে ১৪ দল মনে করে।’ 

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই ভুল সিদ্ধান্ত তাদের জন্যই অসম্মানজনক সিদ্ধান্তে পরিগণিত হবে। এখানে তৃতীয় কোনো শক্তি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানো বা এই ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এদেশের জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করার কোনো প্রয়াস আছে কি না বা তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে তলিয়ে দেখা উচিত। আর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো দেশের সরকারকে পছন্দ না করে বা তার ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার পরিবর্তন করতে চায়- তখনই তাদের ওপর বিভিন্ন দোষারোপ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিশ্ব নেতৃত্বে ফিরতে এই অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশকে তাদের প্রভাব বলয়ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্রের সম্মেলনে দাওয়াত না দেয়ার পেছনে সেই ভূরাজনীতিই কাজ করেছে ‘

তিনি বলেন, ‘এদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার কী? সেখানে তো বর্ণ-লিঙ্গ বৈষম্যও প্রকট। সেখানকার জনগণ মানবাধিকারের জন্য লড়াই করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যখন মানিধকারের কথা বলে বিশ্ব তখন তা বিশ্বাস করে না।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বিজয়ের মাসে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তাদের দেশে প্রবেশধিকবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এটি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ভুল তথ্য দ্বারা পরিচালিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ভেতরে যেসব রাজনৈতিক দল ও মহল হঠাৎ উচ্ছ্বসিত হয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখেন, তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। বিদেশের কোন রাষ্ট্র কী বললো না বললো, সেটি দেখে বাংলাদেশের ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ যারা করেন, তারাও বোকার স্বর্গে বাস করছেন।’ 

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নানা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। আজ তারা যেটা করছে, সেটাও এর পূর্ব লক্ষণ। তারা বাংলাদেশের সরকারকে পরিবর্তন করতে চায়। তবে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাবু করা যাবে না। তিনি যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, সেটা মোকবিলা করেই সামনে এগিয়ে যান।’ 

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী এমপি, গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসকে সিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদ ইসলাম খান, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহম্মেদ মুক্তা প্রমুখ।