মাদারীপুরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজৈর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত অবস্থায় ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।

গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে মোশারফ মোল্লার লোকজন প্রকাশ্যে ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে আমিসহ কিছু লোক গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে, আমাকে অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। আমি থানায় অভিযোগ করব।’

জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের গাংকান্দি সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে রোববার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে হামলার শিকার হন গোলাম রাব্বানী। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ইউপি নির্বাচনে ইশিবপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রব্বানীর মামা সালাহ উদ্দিন আহমেদ চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। মামার পক্ষে বেশ কিছু দিন তিনি প্রচার চালিয়েছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাংকান্দি সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ মোশারফ মোল্লার লোকজনের ভোট কারচুপির অভিযোগ শোনার পর রাব্বানী সেখানে যান। এ সময় ওই প্রার্থীর ছেলে সোহেল মোল্লা তার ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে যায়। পরে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের আরও পাঁচজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা রাব্বানীসহ অন্যদের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। রাব্বানীর হাতে সেলাই দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কেন্দ্রের ভেতর তেমন কোনো কিছু হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভোট সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। কোনো জাল ভোট বা ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেনি। বাইরে কিছু হলে সেটা তো আমার দেখার বিষয় নয়।’

রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ মোল্লার সঙ্গে এ বিষয় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. সাদিক বলেন, ‘নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। আমি এখনও রাব্বানীর ওপর হামলার কথা শুনিনি। থানায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিবচর ও রাজৈরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. আনিচুর রহমান জানান, ইশিবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাংকান্দি সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ মোশারফ মোল্লা ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী একই সময় কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ায় একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি মিটমাট হয়ে গেছে আমার জানা মতে।