সংসদ বাতিল ও সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

নেতারা বলেছেন, আমলা-পুলিশ ও দলীয় গুন্ডাদের দিয়ে দিনের ভোট রাতে সিল মেরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে আওয়ামী লীগ সরকার। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের প্রতিও তাদের কোনো দায়বোধ নেই। এই সরকার উচ্ছেদ করে গণদাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার পল্টন মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলে নেতারা এসব কথা বলেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন বছর পূর্তিতে দেশব্যাপী 'কালো দিবস' পালনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে এই সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের আয়োজন করা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক, সাজ্জাদ জহির চন্দন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মানস নন্দী, মোশরেফা মিশু, বাচ্চু ভুঁইয়া, হামিদুল হক ও বিধান রায়। পরিচালনা করেন আকবর খান।

নেতারা বলেন, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়ে সরকার দেশে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাট কায়েম করেছে। চাল, ডালসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন দিশেহারা। সিন্ডিকেটের কাছে জনগণ জিম্মি। গুম, খুন, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়েছে। ক্ষমতায় না থেকে নির্বাচন করে জয়লাভের কোনো সম্ভাবনা থাকে না বলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে শাসকদের এত ভয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং চলমান ইউপি নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকার তথা শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশে নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। সাংবিধানিক সব সংস্থারও কোনো আইনগত ভিত্তি দাঁড় করাতে পারেনি। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করে নির্বাচন কমিশন যত শক্তিশালীই হোক না কেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।