ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

বিএনপিতে ফেরার প্রশ্নে তওবা-আস্তাগফিরুল্লাহ বললেন শাহজাহান ওমর

বিএনপিতে ফেরার প্রশ্নে তওবা-আস্তাগফিরুল্লাহ বললেন শাহজাহান ওমর

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাহজাহান ওমর। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৮:৪৩ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯:১০

সদ্য কারামুক্ত বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। পরে বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এতে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মোবাইল ফোনে নানা রকম হেনেস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে আসেন তিনি।

এসময় তার কাছে বিএনপিতে ফেরার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ, নাউযুবিল্লাহ। এটা কেমন কথা বলেন।’

বুধবার তিনি বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের তোপের মুখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। পরে দুপুর দেড়টার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আসেন শাহজাহান ওমর। অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর–রশীদ।

হারুন অর–রশীদ বলেন, আর দশজনের মতো শাহজাহান ওমরও ডিবিতে আসেন তার ব্যক্তিগত সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ দিতে। তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে সাইবার হেনেস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দিয়েছেন। তার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ডিবি কার্যালয়ে থেকে বের যাওয়ার সময় অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের শাহজাহান ওমর বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগে আমি বিএনপি করতাম। এরপরে ব্যক্তিগত কারণে আওয়ামী লীগে যোগ। আমি একজন সাবেক সংসদ সদস্য। আমি ইদানীং বিভিন্নভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি। বিভিন্ন মানুষ আমাকে অকথ্য ভাষায় কথা বলে। মাঝে মাঝে ফোনে আমাকে না পেয়ে আমার মেয়ের ফোনে, স্ত্রীর ফোনে, ছেলে ও আমার জুনিয়র আইনজীবীর ফোনে,  এমনকি আমার বন্ধুবান্ধবের ফোনেও কল করে আজেবাজে কথা বলে। আমি যদি কল ব্যাক করি তাহলে কেটে দেয়। এ জন্যই আমি ডিবি অফিসে হারুন সাহেবকে জানাতে আসলাম, ভাই আমি সাইবার বুলিংয়ের শিকার।’

কারা বুলিং করছে জানতে পেরেছেন কি না?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো তারা (পুলিশ) খুঁজে বের করবে।’ তবে শুধু ফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, প্রকাশ্যেও তাকে হেনেস্তা করা হচ্ছে। আদালতেও কতিপয় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাকে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ সাবেক এই সংসদ সদস্যের।

বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করেছেন কি না, ‘এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, 'আজ যার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, কাল তার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নাও থাকতে পারে। আমি এক রাজনৈতিক দল থেকে অন্য দলে গেলাম। এতে কি বেইমানি হয়ে গেল। বেইমানি তো ধর্মের বিষয়।’ 

ঝালকাঠিতে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, ‘না না এটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং। আমি আগে বিএনপি করতাম তো। অনেক দিন পরে এলাকায় গিয়েছিলাম। বিএনপির অনেক লোক আমার সাথে সাথে গেল, আওয়ামী লীগ যারা... এখন তো বিএনপি-আওয়ামী লীগ নাই আমার এলাকায়। আমরা সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি ওখানে। আমার লাইসেন্স করা পিস্তল আছে আপনারা জানেন হয়তোবা। সেইটা আমার সাথে ছিল এবং সেইটা আমি অফিসে রেখে চলে আসছি। ইটস এ মিসটেক, অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি। আমার এক লোক সেইটা হাতে হাতে নিয়া গেছে।ওখানে কোনো ফর্মাল মিটিংও ছিল না, কোনো সভাপতি ছিল না, কেউ বক্তব্যও রাখে নাই।’

নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘এটা ভুল তথ্য। নির্বাচনী আচরণবিধি আমার কাছে ছিল না, সেটা আনতে গিয়েছিলাম। এখন দেখেন, আমার ছবি তুলতেই পারেন। কিন্তু বলতে হয় না- ভাই, আপনার একটা ছবি তুলি? এটুকু তো অন্তত আশা করতেই পারি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে আপনি দুঃখপ্রকাশ করবেন কি না? তিনি বলেন, ‘নো ব্রাদার, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করিনি। খুবই সদাচরণ করেছি।’

আরও পড়ুন

×