রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ না নিয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপি আসলে নির্বাচন ‘বানচাল করতে চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী; আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে সংলাপের আয়োজন করেছেন যা বিএনপি কখনো করেনি। বিএনপি সেই সংলাপে যাবে না এবং সংলাপের বিরুদ্ধে নানাধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে কারণ আসলে বিএনপির উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচনটাকে বানচাল করা। তারা যেভাবে ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিলো, ২০১৮ সালে নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করেছিলো একইভাবে তারা আগামী নির্বাচনটাকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু দেশের মানুষ তাদেরকে সেই সুযোগ দেবে না।’ 

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র টিএসসি সড়কদ্বীপে পোস্টার সাংস্কৃতিক সংসদ ও বজ্রকণ্ঠ সংগঠনদ্বয় আয়োজিত দিন বদলের মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। 

পোস্টার সাংস্কৃতিক সংসদ সভাপতি এস এম জামাল উদ্দিন ইউসুফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান উদ্বোধক হিসেবে, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বিশেষ অতিথি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: শাহে আলম মুরাদ সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে দিন বদল হয়েছে কিন্তু এই দিন বদল অনেকের পছন্দ নয়। দেশের মানুষ ভালো আছে এটি অনেকের পছন্দ নয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যখন পদ্মাসেতু নির্মাণ শুরু করলাম তখন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি নেতারা বললেন, আওয়ামী লীগ করতে পারবে না, তারা ক্ষমতায় গেলে একসাথে দু’টা পদ্মাসেতু করবে। এখন তো পদ্মাসেতু হয়েই গেছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায়।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে টিপ্পনী কেটে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অপেক্ষায় আছি, যারা পদ্মাসেতু হবে না বলেছিল তারা গাড়ি চালিয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যায়, না কি আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকায় এপার থেকে ওপার যায় সেটা দেখার জন্য।’ 

বিএনপি-জামাত ‘ধ্বংসাত্মক’ রাজনীতি না করলে দেশ আরও এগিয়ে যেত বলে মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৩ বছরে দেশ আরো অনেক এগিয়ে যেতে পারত যদি বিএনপি-জামাত এবং তাদের দোসরদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যার রাজনীতি, দিনের পর দিন মানুষকে অবরোধ করার রাজনীতি না থাকতো এবং দেশের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালানোর অপরাজনীতি যদি তারা না করত।’

তিনি বলেন,‘আজ থেকে ১০ বছর পর বাংলাদেশ ২০৩১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনা করতে চাই, সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছুতে হলে এই অপরাজনীতির অবসান হতে হবে।’

দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনীতি স্থিতিশীলতা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনাকে যদি সমুন্নত রাখতে হয় একইসাথে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকে এই কবিতা পাঠের আসর, সংস্কৃতির চর্চা ভবিষ্যতে হবে কি না সন্দেহ আছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে না থাকেন তাহলে দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর গলা চিপে ধরা হবে।’

মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিহত করতে সারাদেশে ‘সাংস্কৃতিক গণজোয়ার’ তৈরি করতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান হাছান মাহমুদ। 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামাত তাদের সাথে জোট করেছে, যারা এই দেশটাকে তালেবানী রাষ্ট্র বানাতে চায়। এই অপশক্তির যাতে বিনাশ হয় ও চিরতরে দূরীভূত হয় সেই চেতনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সারাদেশে একটি সাংস্কৃতিক গণজোয়ার তৈরির জন্য আমি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে অনুরোধ জানাবো। তাহলে নতুন প্রজন্মকে আমাদের আবহমান সংস্কৃতির সাথে সংযুক্ত করতে পারব। একইসাথে মাদকাসক্তি এবং মৌলবাদ-আসক্তি থেকে তাদেরকে মুক্ত রাখা সম্ভবপর হবে।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দিন বদলের পর্বটি শুরু হয়েছিলো দুই ধাপে। প্রথম ধাপে জাতির পিতার নেতৃত্বে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। তখনই মূলত বঙ্গবন্ধু সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের দিন বদলের বীজ বপন করলেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য পচাঁত্তরের ১৫ আগষ্ট একটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটলো। তারপরে স্থবিরতা চলে আসে। দিন বদলের আর কোটি বীজ বপন হয়েছিল ১৯৮১ সালের ১৭মে, যেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অনেক বাধাবিপত্তি মাথায় নিয়ে দেশে ফেরেন। আজকে যে বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি, যে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল, সেটা সম্ভব হত না, যদি না বঙ্গবন্ধু কন্যা সেদিন দেশে ফেরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ না করতেন।’

আলোচক হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী  লীগের উপদেষ্টা কামাল চৌধুরী, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবিএম আশরাফুল ইসলাম মারুফ, স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. ফোরকান মিঞা, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদ সদস্য সুজন হালদার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা এবং মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার আলী আসগর স্বাগত বক্তা হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। কবি ও সাহিত্যিকদের মধ্যে কবিতা আবৃত্তি করেন ড. শাহাদৎ হোসেন নিপু, অসীম সাহা, আসলাম সানি, অঞ্জনা সাহা, তপন বাগচী, রহিম শাহ, বাপ্পি রহমান, ইউসুফ রেজা প্রমুখ।