নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপকে 'অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। তারা বলেছে, রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগ নিতান্তই প্রচারসর্বস্ব। কেননা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ব্যক্তিগতভাবে তার যে বিবেচনাবোধই থাকুক না কেন, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর মতামত ও ইচ্ছার বাইরে তার কিছু করণীয়ও নেই।

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মৈত্রী মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাম জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা বিধান দাস প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বাম জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিলেও তা তিনি করেন প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে। ২০১২ ও ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতির সংলাপ ও সার্চ কমিটির মাধ্যমে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল, সেটা নজিরবিহীন দায়িত্বহীনতা ও কলঙ্কের স্বাক্ষর রেখেছে। তিনি বলেন, সরকার ও সরকারি দলের হয়ে কাজ করতে গিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অবশিষ্ট ন্যূনতম ব্যবস্থাই তুলে দিয়েছে। ভোটের মধ্য দিয়ে ভোটারদের পছন্দের দল ও প্রার্থীকে নির্বাচিত করার অধিকার তারা হরণ করেছে। গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে চরম হাস্যকর, প্রতারণাপূর্ণ, নিস্ফলা আর প্রহসনে পর্যবশিত করেছে। দেশে এখন দলীয় সরকারের অধীনে সামান্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো অবকাশ নেই। সরকারি নীলনকশার বাইরে কিছুই করার সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যমান সংকট উত্তরণে দেশে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতৈক্যের ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে উদ্যোগী হবার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন 'নিরপেক্ষ তদারকি সরকার' গঠনের জরুরি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার দাবি জানানো হয়।