বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, শুধুমাত্র বিএনপির সভা-সমাবেশ ঠেকাতেই গতকাল ঘোষণা দেওয়া বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে কি না তা নিয়েই জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে এবং ১৪৪ ধারা ভেঙে সভা-সমাবেশে যোগ দিতে শুরু করেছে মানুষ। এতেই আতঙ্কিত সরকার। যতই চক্রান্তের জাল ফেলা হোক না কেন, এই অবৈধ সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না। মামলা দিয়ে, সাজা দিয়ে, বিধি-নিষেধ দিয়ে, চক্রান্ত করে জনগণকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। 

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আরেকটি মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা দিয়েছিল। এখন সেই মামলাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সাজা দেওয়া শুরু করেছে।

রিজভী বলেন, অবৈধ পথে ক্ষমতায় থাকা এবং ভোটারবিহীনভাবে আগামী নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করতেই একের পর এক সাজা দেওয়া হচ্ছে। আদালতে কাঁধে বন্দুক রেখে নির্দোষ বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া রাষ্ট্রের নাৎসিবাদী চেহারা বিপজ্জনকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গতকাল মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিএনপির ১০ জন নেতা-কর্মীকে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যে মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, ওই স্থানে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। যদি আইন-আদালত শেখ হাসিনার কব্জায় না থাকতো তাহলে এই মিথ্যা মামলায় সবাই খালাস পেত।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশেই এসব শুরু হয়েছে। পুলিশ বিরোধী দলের আন্দোলন দাবানোর জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে বানোয়াট বানোয়াট মামলা দায়ের করেছিল। এই মুহূর্তে ওই মামলায় সাজা দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দেশে-বিদেশে সরকারের অপকর্ম ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হয়ে পড়ায় জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন বিরোধী দল, বিরোধী মত অবৈধ সরকারের নানাবিধ নিপীড়নের শিকার হতে থাকবে।

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছায়। আওয়ামী সরকার ফলাফল ধরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। তারা সেই ফলাফলই ঘোষণা করে।