বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষ ও বিরোধী মতকে গুম করে উন্নয়নের বুলি দিচ্ছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস গুম হয়েছে , তার খোঁজ নেই। অসংখ্য বিএনপি কর্মী, ভিন্ন মতের মানুষ গুম হয়েছে, তাদের খোঁজ নেই। সরকারই এসব মানুষকে গুম করে মেট্রোরেল দেখায়, ফ্লাইওভার দেখায়, উন্নয়নের বুলি শোনায়। 

বুধবার বিকেলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিবপুরে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার আরেকটি ভোট করতে চায়। যে ভোট রাতের আঁধারে হয়, যে ভোট সূর্যের আলোতে হয় না। যে ভোট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়। জনগণ সরকারকে আর এমন প্রহসনের ভোট করতে দেবে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে সামনে থেকে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তার স্ত্রী আজ কারাগারে। সরকার একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে তাকে জেলে রেখেছে। তাকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দাবিতে স্পাত কঠিন হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশে রাজশাহীর ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। জেলা বিএনপি এ মহাসমাবেশের আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

সমাবেশের শুরুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ অতিথিরা মঞ্চে উঠলে অভিমান ও দ্বন্দ্বের জেরে মঞ্চে না উঠে সমর্থকদের নিয়ে মাঠে বসে থাকেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ত্রাণ বিষয়ক ও মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। 

তাদের মঞ্চে আসতে বলা হলেও তারা মাঠেই অবস্থান নেন। এতে বিব্রত হয়ে সমাবেশের সভাপতি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ মাঠে এসে তাদের মঞ্চে যেতে অনুরোধ করেন। তবুও তারা মাঠেই বসে থাকেন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য শফিকুল হক মিলনের নাম ঘোষণা করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠেন। এ সময় মঞ্চের সামনে বসে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা মিলনের দিকে স্যান্ডেল ছুড়ে মারেন। এর পর শুরু হয় হট্টগোল ও হাতাহাতি।

নেতাকর্মীরা জানান, মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ থেকে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সম্প্রতি শফিকুল হক মিলনকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি মানতে পারেননি তারা। এ কারণেই তারা মঞ্চে না উঠে প্রতিবাদ জানান। 

তবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, ক্ষোভ থেকে নয়, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মাঠে আছেন।