করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে জনস্বার্থ এবং প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে বিএনপির চলমান সভা সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। 

শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মূলত করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের বিধিনিষেধ জারির প্রজ্ঞাপনের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ৩৯ টি জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। ইতোমধ্যে গত ১২ জানুয়ারি ৬টি জেলায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 

নজরুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, ‘সরকারের দমনপীড়নে চলমান আন্দোলকে স্তব্ধ করা যায়নি বরং তা আরও বেগবান হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ ও দারুণ অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসাসহ অনির্বাচিত, দুর্নীতিবাজ ও বিশ্ব দরবারে মাতৃভূমির মর্যাদা বিনষ্টকারী সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য যথার্থই নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে এবং চলবে।’ 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাজনীতি করে বলেই আমরা বিভিন্ন সময়ে করোনার সংক্রমণ এবং তার অনিবার্য রীতি সম্পর্কে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছি। জনগণকে সচেতন এবং ঔষধ, অক্সিজেন সরবরাহ ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। এমনকি সংক্রমণের বৃদ্ধি রোধের লক্ষ্যে দলীয় কর্মসূচি বন্ধ রেখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি। এখনও আমাদের কাছে জনস্বার্থই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার কোডিড-১৯ এর ডেল্টা ও ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট প্রতিরোধে যতটা না আগ্রহী, তার চেয়েও বেশী আগ্রহী বিরোধী দল দমনে। ইতোমধ্যে তার অসংখ্য প্রমান জাতি দেখেছে। ১১ দফা নির্দেশাবলী জারি হওয়ার আগেও আমাদেরকে দেশের বহু স্থানে সমাবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’