আওয়ামী লীগ সরকার ও দেশবিরোধী প্রচারণায় ৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। 

মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাব সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি- জামায়াত সুস্পষ্টভাবে বর্তমান সরকার ও দেশবিরোধী প্রচারণার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছে এবং তার প্রমাণ সরকারের হাতে আছে। তারা এখন পর্যন্ত লবিস্ট ফার্মকে ৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।’

এসময় তিনি জানান, বিএনপি -জামায়াতের অপপ্রচারমূলক প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছাপানোর জন্য ২০১৫ সালে একটি পিআর ফার্ম নিয়োগ করে সরকার। এই প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়। 

শাহরিয়ার আলম এসময় জানান, বিএনপি-জামায়াত বিদেশি লবিস্ট নিয়োগে ৮টি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে তিনটি চুক্তি করেছে বিএনপি। এই তিন চুক্তিতে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিএনপি অফিসের ঠিকানাও চুক্তির কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া নেই। তবে চুক্তির কপিতে তাদের নাম রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটা ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ করতে একাধিক চিঠি লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন, তার প্রমাণও সরকারের কাছে আছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত যেসব লবিস্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে, সেই সব চুক্তির কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হবে। এই চুক্তি করতে বিদেশে যে অর্থ তারা পাঠিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তাতে অনুমোদন রয়েছে কিনা তা যাচাই করতেই চুক্তির কপিগুলো পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আয় ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হয়। নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-জামায়াত এই অর্থের হিসাব দিয়েছে কিনা, কমিশনও নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এসব চুক্তির অনুমোদন রয়েছে। তবে এই চুক্তির অর্থের উৎস কি তা খতিয়ে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই। কারণ জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে বিএনপি-জামাতের এই অর্থের সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ এটা সবাই জানে বিএনপি-জামাতের সময় দেশে জঙ্গিবাদের ব্যাপক উত্থান ঘটেছিল।’ 

তিনি আরও জানান, ২০১৩-১৪ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্যসম্বলিত’ প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচার শুরু করে বিএনপি জামায়াত। তখন এসব অপপ্রচারমূলক প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছাপানো এবং বাংলাদেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি পিআর প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। 

শাহরিয়ার আলম জানান, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লেখাও ছাপা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘এই পিআর প্রতিষ্ঠানকে দেশের কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ভুলভাবে লবিস্ট ফার্ম হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রকৃতপক্ষে সরকার কোনো লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেনি। লবিস্ট ফার্ম অপপ্রচারের জন্য বিএনপি-জামায়াতই নিয়োগ করেছে।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের কথা সম্ভবত বলেননি, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখা হতে পারে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তার জন্যও লবিস্ট নিয়োগের কোন সিদ্ধান্ত নেই। সরকার কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চায়। 

শাহরিয়ার আলম জানান, বিদেশে বসে অপপ্রচারকারীদের পাসপোর্ট বাতিলের একটা সুপারিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।