তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যখন কোন দেশ এগিয়ে যেতে থাকে, তখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তি সেই দেশের পা টেনে ধরতে চায়। তখন মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে নিয়ে আসে। অথচ তাদের নিজেদের দেশে মানবাধিকারের কোনো খবর নেই। 

তিনি বলেন, ২০০৪ সালে খালেদা জিয়া র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর থেকে র‌্যাবকে অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। তখন তো এ প্রসঙ্গ আসেনি, হঠাৎ এখন কেন আসছে? এর পেছনে নিশ্চয়ই ‘কিন্তু’ আছে। র‌্যাবের কোনো সদস্য যদি ভুল করে, তদন্ত হয়; তাদের বিচার হয়; শাস্তিও দেওয়া হয়। 

শনিবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের বরণ এবং কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হাজারো মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজত থেকে নিখোঁজ হয়, গুলিতে মারা যায়। সেগুলো নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কখনো বিবৃতি দেয় না। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস এক্সপার্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গুয়ান্তানামো বে কারাগারে বন্দি নির্যাতন হচ্ছে। সেই কারাগার বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সেটা নিয়ে তো কোনো মানবাধিকার সংগঠন বিবৃতি দেয়নি।

এ সময় আইনজীবীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন পেশার শুরুতে অনেক টানাপোড়েন থাকে। শুরুতে যারা অর্থের পেছনে দৌড়াবে, তারা ভালো আইনজীবী হতে পারবে না। ধৈর্য ধরে যিনি এ পেশায় লেগে থাকেন তিনি কিন্তু পরবর্তীতে ভালো আইনজীবী হন। দেশে আইনের শাসন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির সদস্য মো. মুজিবুল হক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন।