হত্যার পর লাশ গুমের স্থান বা ডাম্পিং জোন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা। অপরাধীরা অন্য স্থানে খুন করে লাশ এনে ফেলছে এখানকার নির্জন সড়কের পাশে, জলাশয়ে কিংবা বুড়িগঙ্গা নদীতে। পচে দুর্গন্ধ বের হলে এসব লাশের অস্তিত্ব টের পায় মানুষ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় গত দুই বছরে উদ্ধার হয়েছে মোট ৯৪টি লাশ। ২০২০ সালে ৪৮টি এবং ২০২১ সালে ৪৬টি। সম্প্রতি অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। পরিচয় মিললে পুলিশ তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে থাকে। শনাক্ত করা না গেলে তা 'বেওয়ারিশ লাশ' হিসেবে দেওয়া হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে।

'ডাম্পিং জোন' হিসেবে কেরানীগঞ্জ প্রথম আলোচনায় আসে ২০০২ সালে। ওই বছরের ১০ নভেম্বর বুড়িগঙ্গা নদীর চীন-বাংলাদেশ মেত্রী সেতুর নিচের এক পিলারের ওপর থেকে মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই লাশের পরিচয়ও প্রথমে কারও জানা ছিল না। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন থানায় এসে সেটিকে তিন্নির বলে শনাক্ত করেন।

গত বছরের ৩১ জুলাই কেরানীগঞ্জ পুলিশ বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র আরিফুল ইসলামের লাশ। এটিও প্রথমে 'অজ্ঞাত' হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীর পোস্তগোলা থেকে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বোন জামাই সোহেল আহমেদ জানান, শাহনেওয়াজ লালবাগ এলাকায় ব্যবসা করতেন। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ব্যবসায়ী নূরুল আমীন মন্টুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার ছেলে আমির হোসেন বলেন, পূর্বশত্রুতা থেকে সন্ত্রাসীরা তার বাবাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, প্রায়ই কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবীর বলেন, 'কেরানীগঞ্জ উপজেলাটি ডাম্পিং জোন হয়ে ওঠায় পুলিশকে ব্যাপক তৎপর থাকতে হচ্ছে।'