শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে আন্দোলন ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে তা দ্রুত সমাধান করার দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা হলের, হল প্রভোস্টের পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং অশোভন আচরণের বিরুদ্ধে তিন দফা দাবি নিয়ে ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা করা হয়। এর ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং এক সময় আন্দোলনরত ছাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ ঘোষণা উপেক্ষা করে শিক্ষাথীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করতে থাকে এবং তারা অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করে। শীতের রাতে ফাঁকা মাঠে অবস্থান করে এই অনশনে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং চিকিৎসাধীন আছে।

এতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড হামলার ঘটনা এই প্রথম। এ ছাড়াও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের এই মুখোমুখি অবস্থানে মহিলা পরিষদ উদ্বিগ্ন। 

আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হামলা এবং আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশের বর্বর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মহিলা পরিষদ দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানায়।