সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নতুন কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এবং সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ফ্রন্টের ১৮তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি আল কাদেরী জয়।

কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন রায়হান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব কান্তি রায় এবং দপ্তর সম্পাদক অনিক কুমার দাস। এছাড়া অর্থ সম্পাদক করা হয়েছে সুলতানা আক্তার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুহাইল আহমেদ শুভ, স্কুল সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম।

সদস্যরা হলেন- যুগেশ ত্রিপুরা, ধনঞ্জয় বর্মণ, রেহনোমা রুবাইয়াৎ, লাবনী সুলতানা, বিশ্বজিৎ নন্দী, রিনা মুর্মু, আনারুল ইসলাম, ফজলুল হক রনি, হারুন অর রশীদ, আবু সাইদ, লাবনী বন্যা, রিদম শাহরিয়ার এবং বিজন শিকদার।

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে একটি ছাত্র সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টিএসসি মিলনায়তনে এই আয়োজন করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্সের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ডাকসুর সাবেক সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিখিল দাস, সাবেক সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, ইমরান হাবিব রুমন প্রমুখ।

এর আগে সমাবেশের আগে সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি র‌্যালি বের করেন। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন,‘শাসকশ্রেণি আজ শিক্ষাধ্বংসের সকল প্রকার চক্রান্ত জারি রেখেছে। করোনা মহামারীর অযুহাত দেখিয়ে সরকার আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে। বাণিজ্যমেলা চলছে, অথচ শিক্ষার্থীদেরকে বলছে অনলাইনে ক্লাস করতে। দেশ ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে বলে সরকার প্রতিদিন চিৎকার করে, অথচ দেশের ইন্টারনেটের গতি সর্বনিম্ন। গণতন্ত্র আজ ভুলন্ঠিত। সামান্য ভোটও আর এই পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছে না। ছাত্রদেরকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে হবে। একইসঙ্গে গণতন্ত্রের সংগ্রামকেও জোরদার করতে হবে।’

সমাবেশ শেষে নতুন কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন আল কাদেরী জয়। কমিটি পরিচিতি শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।