আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ইসির সব কাজে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এই ইসির অধীনে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশবাসীর কাছে আইনের মাধ্যমে ইসি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আইন প্রণয়নের পর ইসি গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত নাম বাদ পড়লেও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগ আশা করে, নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। মানুষ যাতে ভোটের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে, সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করবেন।

শুধু রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এই কমিশনকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আশা করে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুসরণ করে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সাধুবাদ জানালেও বিএনপি নেতারা চিরাচরিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক ও বিভ্রান্তকর বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন। তারা জনবিচ্ছিন্ন ও হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তাদের লক্ষ্য নির্বাচন নয়, হত্যা-ক্যু, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা। কিন্তু জনগণ তাদের বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের প্রধান দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি নির্বাচনে করতে পারে না। তাহলে কার নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে- এ প্রশ্নের উত্তর বিএনপি জানে না। তাই তারা দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি বারবার গণতন্ত্র ও সংবিধানকে হত্যা করেছে। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা কখনও নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেনি। জন্মলগ্ন থেকেই তারা সংবিধান ও আইনের বিধিবিধান ভূলুণ্ঠিত করে অসাংবিধানিক পন্থায় জনগণকে জিম্মি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছে। মজ্জাগত অভ্যাস অনুযায়ী আবারও রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে উন্মাদ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারা।