বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একদলীয় শাসনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চাইছে। তারা চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। এই সরকার এখন ফ্যাসিস্ট সরকারে পরিণত হয়েছে। এই সরকার পরিবর্তনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আয়োজনে 'উত্তাল মার্চ ১৯৭১ সাল' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করছে। মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান তাদের অস্বীকার করছে। শুধু একটি দল ও একটি পরিবারকে মহিমান্বিত করতে নিজেদের মতো করে ইতিহাস রচনা করছে। তারা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিচ্ছে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সরকার মরতে রাজি, ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না। কিন্তু যত বড় দলই হোক এককভাবে স্বৈরশাসন কায়েম করে টিকতে পারে নাই। ভালোয় ভালোয় বিদায় না নিলে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এই সরকারের আগে কেউ এত বেশি বিকৃত করেনি। মিথ্যা কল্পকাহিনি দিয়ে সত্য ইতিহাস বিকৃত করছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মানবাধিকার লুণ্ঠন করায় একটি বাহিনীকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই হাইব্রিড সরকারকে আর কেউ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এজন্য আওয়ামী লীগের মধ্যেও যারা গণতন্ত্রমনা আছেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার বিদায় করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে যারা এতদিন জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ।