দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে নিয়ে পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা.শফিকুল ইসলাম যে মন্তব্য করেছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের প্রত্যাহার দাবি করেছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি করেন।

রিজভী বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা এভাবে দলীয় ক্যাডারদের মত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন না। অবশ্যই তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।’

গত ২৬ মার্চ  রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান বেনজির আহমদ এবং তারই অধস্তন ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দাম্পত্য জীবন নিয়ে মন্তব্য করেন।

এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন,‘ভব্যতা-সভ্যতার সকল সীমা ছাড়িয়ে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ শিষ্টাচার বর্জিত অশালীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়েছেন তাতে গোটা দেশবাসী হতবাক। আমরা আশা করি, পুলিশের অতি দলবাজ এই দুই কর্মকর্তা তাদের গর্হিত অপরাধের জন্য জাতি কোনদিন ক্ষমা করবে না। ’ 

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ হয় গত বছর। ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর নিয়ম অনুযায়ী শফিকুল ইসলামের মেয়াদ শেষে অবসরোত্তর ছুটি প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে তাকে অতিরিক্ত এক বছর মেয়াদে পুনর্নিয়োগ দেয় সরকার।

তার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রায় এক দশকে হয়ত গুম, খুন অপহরণে পারদর্শী হয়ে ওঠায় বিনা ভোটের সরকার তার সার্ভিস আরও প্রয়োজন মনে করে তাকে এক বছরের জন্য চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। সেই অতিরিক্ত মেয়াদের একবছর মেয়াদকালও শেষ হয়ে আসছে। ফলে আবারও চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ লাভের আশায় শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য সুরুচি ও ভদ্রতার সকল সীমানা অতিক্রম করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিবেকবর্জিত বক্তব্য দিয়েছেন।’

পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রাজারবাগের একই অনুষ্ঠানে পুলিশের আইজি বেনজির আহমেদও বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে তীব্র্র রোষ নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ভাষায় দেশের আপামর গণতন্ত্রকামী মানুষকে ধমক দিয়েছেন। তাচ্ছিল্যভরে নানা কটু মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানি উর্দী পরা কর্মকর্তারাও এভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষকে বাংলা-উর্দু মিলিয়ে ধমক দিতেন।’ 

র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, ‘বেনজির আহমেদের বন্দুক-পিস্তলের মাথায় যেহেতু গণতন্ত্রকামী বহু মানুষের জীবন-মৃত্যু নির্ভর করছে, সুতরাং তার সম্পর্কে আপাতত আর বেশি কিছু না বলাই নিরাপদ। তার ওপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর জনগণ ভেবেছিল কিছুটা হলেও দেশে গুম-খুনের ভয়ের পরিবেশ কেটে যাবে। কিন্তু গত পরশু তার বক্তব্যে বোঝা গেলো তিনি বাংলাদেশে বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতেও দ্বিধা করবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কাবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।