যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে চিত্র উঠেছে তাতে ‘একপেশে ও ভুল তথ্য’ রয়েছে দাবি করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনি একমত নন।

তিনি বলেন,‘মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মানবাধিকার প্রতিবেদনটি আমি দেখেছি। আমরা এই রিপোর্টে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রতিবেদনের সাথে একমত নই। আমরা মনে করি, এ রিপোর্টের তথ্য-উপাত্ত নির্দিষ্ট কিছু সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়। এবং সেই সূত্রগুলো একপেশে ও অনেক ভুল তথ্য সরবরাহ করায় রিপোর্টটি এমন হয়েছে।’

পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় পাম ভিউ রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম আয়োজিত ‘মাহে রমজান ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা ও ইফতারের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিপীড়ন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দায়মুক্তি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নিপীড়ন, হত্যা ও দুর্নীতির খুব কম সংখ্যক ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বাংলাদেশের সংবিধানে একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা রয়েছে; যার অধিকাংশ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নানা অনিয়মের কথাও তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায় বলে মন্তব্য এসেছে ওই প্রতিবেদনে।

ওই প্রতিবেদনের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো, সবক্ষেত্রে না হলেও। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ান্তামো বে'তে যেভাবে মানুষকে নির্যাতন করা হয়, সে ধরনের কোনো কারাগার আমাদের দেশে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের দেশে কখনো এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হয়নি। মার্কিন পার্লামেন্টে যেভাবে হামলা করে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে, স্পিকারের চেয়ারে দুষ্কৃতিকারী বসে ছিল, এমন কোনো ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি। গত দশ বছরের পরিসংখ্যানমতে যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা ৩০ শতাংশ হলেও পুলিশের গুলিতে নিহতদের অধিকাংশই এই সংখ্যালঘুরা। এসব কারণে অনেকক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো।' 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানবাধিকার রিপোর্টে যে নিরাপত্তা বাহিনীর কথা আছে, সেই নিরাপত্তা বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা পাচ্ছে। এ কারিগরি সহায়তাসহ অন্যান্য বিষয়ে সহায়তার মাধ্যমে আমাদের যদি কোনো ত্রুটিও থেকে থাকে তা ভবিষ্যতে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।’

যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে চলতি বছর দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছে। করোনা পরবর্তীতে যে আমাদের অর্থনীতি সুদৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিও বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়েছে। যারা রাত-বিরাতে সমালোচনা করেন, আমি আশা করবো তারা এই রিপোর্টের পর বিরূপ সমালোচনা বন্ধ করবেন।’ 

বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মোঃ মকবুল হোসেন, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন প্রমুখ।