বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও দাউদকান্দি-মেঘনা আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ম্যুরাল প্রকাশ্যে ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদল যুবক দাউদকান্দি পৌরভবনের দেয়ালে স্থাপিত ম্যুরালটি শাবল দিয়ে ভেঙে ফেলে। এ সময় তারা পৌরভবনের উদ্বোধনী নামফলকও গুঁড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পৌরভবনের আশপাশে আরও বেশ কয়েকজন যুবক পাহারা দেয়। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। তবে ভেঙে ফেলার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 


স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ম্যুরাল ও উদ্বোধনী নামফলক পুনস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। 

ড. খন্দকার মোশাররফের ছেলে ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এ ঘটনাকে বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এ জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগকে দায়ী করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করেছেন। 

এ বিষয়ে জানার জন্য আওয়ামী লীগ দলীয় দাউদকান্দি পৌর মেয়র নাঈম ইউসুফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

আজ রাত ৯টায় দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ম্যুরাল ও পৌরভবনের উদ্বোধনী নামফলক ভেঙে ফেলার বিষয়টি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাউদকান্দি সদর দক্ষিণ ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করেন। ২০০১-’০৬ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী থাকাকালে তিনি পৌরভবন নির্মাণ ও উদ্বোধন করেন। তৎকালীন মেয়র মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ সরকার সম্মান জানিয়ে পৌরভবনে ড. খন্দকার মোশাররফের একটি ম্যুরাল স্থাপন করেন।