চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গাছে বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যান ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম হাইদগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার বদরুদ্দোজা মোহাম্মদ (বিএম) জসিম হাইদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আর তার ছেলে মুশফিক উদ্দিন ওয়াসি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

এদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে নিজ ঘরের দোতলা থেকে লাফ দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান জসিমের বাম পা ভেঙে যায়। পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। মারধরের শিকার জিতেন কান্তি গুহ হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আহত জিতেন কান্তি গুহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় জিতেনের ভাই তাপস কান্তি গুহ বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জসিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। জসিমের ছেলে ওয়াসি মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি।

অন্য আসামিরা হলেন- রবিউল হোসেন রবি, চৌধুরী লিউ, মো. সাকিব, হাকিম ও বি চৌধুরী। সবাই হাইদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান জসিমের নির্দেশে জিতেনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় চেয়ারম্যান ও তার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন।

এদিকে বর্বরোচিত এ হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় আওয়ামী সুপার মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তিমির বরণ চৌধুরী প্রমুখ। তারা বর্বরোচিত এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ঘটনায় জড়িতদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে বলেও জানানো হয়।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণঘাটা গ্রামে গাউছিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে জিতেন কান্তি গুহকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় জিতেনের রক্তাক্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গাউছিয়া কমিউনিটি সেন্টারে হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান বি এম জসিমকে ইফতারে মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দুপুরের দিকে জসিমের অনুসারী ৩০-৪০ জন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম ধরে গালাগাল করতে থাকেন। জিতেন গুহ বেরিয়ে এলে ইন্দ্রজিৎ লিও নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য জিতেন গুহকে ঘুসি মারেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বাকি লোকজন জিতেন গুহকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে।

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, মামলার পর বি এম জসিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে এবং ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।