জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত, মাথা পিছু জাতীয় গড় আয় আড়াই হাজার ডলার হওয়া, করোনার মধ্যেই জাতীয় প্রবৃদ্ধির ধারা শতকরা ছয় ভাগের উপরে ধরে রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যাওয়া—সবই শ্রমিক-কৃষক-কর্মজীবী-মেহনতি মানুষ, প্রবাসী শ্রমিক, উদ্যোক্তাদের কৃতিত্ব। তারপরও শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা না হওয়া জাতীয় লজ্জা।

মে দিবস উপলক্ষে জাসদের সহযোগী শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সকাল ১০ টায় জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাসদ চত্বরে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি অবিলম্বে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টর নির্বিশেষে শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বিশ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও কিছু কিছু মালিক তাদের কলকারখানা, ফ্যাক্টরিতে কর্মপরিবেশ নিরাপদ না করে মৃত্যুফাঁদ বানিয়ে রেখেছে। তিনি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত ও পঙ্গুদের আজীবন আয়ের সমান মজুরি ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, দেশের সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা ধনিক-বণিক-মালিকদের সরকার না, শ্রমিক-গরিবের সরকার। যতই উন্নয়ন হোক অর্থনীতিকে সমাজতন্ত্রের পথে পরিচালিত না করলে সমাজে সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য বাড়তেই থাকবে। 

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, শ্রমিক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার খোরশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কনক বর্মণ, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, শ্রমিক নেত্রী শিরীন শিকদার প্রমুখ। 

সমাবেশ শেষে শত শত শ্রমিক বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তোপখানা, পল্টন, প্রেসক্লাব এলাকায় লাল পতাকা মিছিল করে।