‘ঈদ বৈষম্যের প্রদর্শনী নয়, ঈদ হোক সাম্যের’ শ্লোগানে বরিশালে মানবতার ঈদ উৎসব পালন করছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা। 

কর্মসূচির আওতায় বরিশাল জেলা বাসদ আজ মঙ্গলবার ঈদের দিন দুপুর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রান্না করা খাবার পরিবেশন করেছে নগরীর লঞ্চঘাট, জেলখানার মোড়, নথুল্লাবাদ, চৌমাথা, রুপাতলী ও গ্যাসটারবাইন এলাকায়। ঈদে যারা বাড়ি যেতে পারেননি সেই সব শ্রমজীবী, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা খাবারের মধ্যে ছিল পোলাও, রোস্ট, ডিম ও সেমাই। 


ঈদের দিন বাড়তি আয়ের জন্য বাড়ি যাননি সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রিকশাচালক শহীদ খান। দুপুরে লঞ্চঘাট এলাকায় বাসদের দেওয়া রান্না করা খাবার পেয়ে শহীদ খান বলেন, ‘ঈদের নামাজ পইড়া গাড়ি লইয়া রাস্তায় নামছি, দুফারের সময় রোস্ট-পোলাউ পাইয়া মনডা খুশিতে ভইরা গ্যাছে। এই খাওন না পাইলে ঈদের দিনও না খাইয়া থাহোন লাগত।’

লঞ্চঘাটের পথশিশু মুন্না রহমান বলে, ‘রোস্ট পোলাউ পাইয়া মনে হইতেছে আইজ ঈদ।’

বরিশাল জেলা বাসদের সদস্য সন্তু মিত্র বলেন, ‘আজ ঈদের দিন বেলা ১টা থেকে শুরু করে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগরীর  ছয়টি পয়েন্টে ২ হাজার শ্রমজীবী, ভাসমান এবং পথশিশুদের মধ্যে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।’

ঈদের আগের দিন (সোমবার) সন্ধ্যায় নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে বাসদের জেলা কার্যালয়ে মানবতার ঈদ উৎসব কার্যক্রম শুরু হয় দুস্থ মানুষদের মধ্যে ঈদ উপকরণ বিতরণের মধ্যে দিয়ে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনশ দুস্থ মানুষের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ১ কেজি পোলাওয়ের চাল, ১ প্যাকেট সেমাই, আধা কেজি চিনি, দুধ ও সাবান। 


সোমবার ঈদ উপকরণ পেয়ে নগরীর পলাশপুরের ১ নম্বর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘এবার মাইয়া-পোলা লইয়া ঈদ পালন করমু।’

মানবতার ঈদ উৎসব প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা বাসদের সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী সমকালকে বলেন, মানুষের সহযোগিতা নিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। 

ডা. মনীষা বলেন, ‘এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নেমে দেখেছি এরকম আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন। ঈদসহ সকল উৎসবে দুস্থ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় আয়োজন থাকা প্রয়োজন। অসচ্ছল মানুষদের জন্য সকল উৎসবে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা দেওয়া দরকার।’