গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এ নিয়ে মামলাটিতে ৩৯ বারের মতো শুনানির তারিখ পেছাল। লুৎফুল কবীর মারা যাওয়ায় বিচারক আসামি লুৎফুল কবীরের মৃত্যুর সনদ পরবর্তী শুনানির সময় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তার জব্দ করা কিছু নথি তারা এখনও দেখতে পাননি। সুতরাং শুনানি স্থগিত করা উচিত। এর আগে খালেদার ব্যক্তিগত উপস্থিতিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল এবং মাসুদ তালুকদার তার অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিত্ব করেন।

আবেদনে মাসুদ বলেন, সরকারের নির্বাহী আদেশের পর এখন কারাগারের বাইরে থাকা খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং এর আগে আদালত তার হাজিরা মওকুফ করেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আইনজীবী মাসুদ মঙ্গলবার আদালতে তার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

খোন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ১১ আসামি বর্তমানে জামিনে আছেন। তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামিরা অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের আইনজীবীরা তাদের হয়ে আদালতে হাজির না হওয়ার জন্য টাইম পিটিশন জমা দেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ৪ দলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।