পি কে হালদারের মতো যারা বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ দাবি জানান তিনি। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পি কে হালদার হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। তাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা ভালো কথা। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, এরকম কতজন হালদার রয়েছেন? আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি, এরকম হাজার হাজার কোটি টাকা তারা দেশ থেকে লুট করে পাচার করে দিচ্ছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা জানতে চাই, হাজার হাজার কোটি টাকা কত পাচার হয়েছে? একদিনে তো পাচার হয়নি। কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে পাচার হলো। কারা তার সঙ্গে জড়িত ছিলো। কারা মদদ দিয়েছে। সেই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্ব হচ্ছে, এই যে দুর্নীতি, চুরি ও ডাকাতি করে অর্থপাচার করা হচ্ছে, তারা (দুদক) অবশ্যই তাদের তথ্য বের করে জনগণের সামনে তা প্রকাশ করতে হবে। আমরা জানতে চাই, এধরণের যারা বড় বড় ব্যক্তি সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তাদের সুষ্ঠু তথ্য করে তাদেরকে জনগণের সামনে আনতে হবে। আইনের আওতায় আনতে হবে।

বুদ্ধ ধর্মকে শান্তি ও অহিংসার ধর্ম উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আজকে আড়াই হাজার বছর পরও আমরা দেখছি- এই পৃথিবীতে এখন, হিংসা, যুদ্ধ, হত্যা ও ধর্ষণ এমন অবস্থা চলে গিয়েছে যে, সমগ্র মানব জাতি বড় রকমের বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশ। 

তিনি আরও বলেন, যে কারণে আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটা গণতান্ত্রিক, শান্তিময় দেশ এবং আমরা একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম যে, এখানে কোন সম্প্রদায় সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন বিদ্বেষ থাকবে না এবং মানুষের মধ্যে কোন হানাহানি হবে না। কিন্তু আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এদেশে তা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত রয়েছে। আজকে শান্তির বদলে এখানে সম্পূর্ণ অশান্তি।

শান্তির কথা বলে এখন শান্তিকে রক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, এখন শান্তির কথা বলে আমরা আমাদের ধর্মকে রক্ষা করতে পারবো না। শান্তির কথা বলে আমরা অন্যায়কে প্রতিহত করতে পারবো না এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারবো না। তাই যারা এই যে অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাদেরকে ক্ষমতা থেকে না সরালে এদেশের মানুষের কোন ভবিষ্যৎ থাকবে না। 

বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম চক্রবর্তী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সুকমল বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।