নারী নির্যাতন মামলার আসামিদের প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ ব্যাপারে তারা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাথে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানান। এ সময় নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

মহিলা পরিষদের এসব দাবির বিষয়ে সিইসি কাজী আউয়াল একমত পোষণ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার মধ্যে থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফওজিয়া মোসলেম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সিইসির সঙ্গে তারা আলাপ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরিবেশ নারী বান্ধব হতে হবে। নারী ভোটাররা স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে এবং নিরাপদে অংশ নিতে পারবে এমন নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র বাড়িয়ে হলেও মেয়েদের নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা যেন ভোট দিতে ঠিক মতো কেন্দ্রে আসতে পারে, সেজন্য ভোটের আগে থেকে যে প্রেসার থাকে, ভোট পরবর্তী যে নির্যাতনগুলো হয়, সেগুলোর বিষয়ে আগে থেকেই একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তারা সিইসিকে বলেছেন।

ফওজিয়া মোসলেম বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেন এটা খেয়াল রাখা হয় যারা ঋণখেলাপী, মামলার আসামি, নারী নির্যাতনের মামলার আসামি, যারা নারীর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, যারা সাম্প্রদায়িক, যারা সাম্প্রদায়িকতা উস্কাচ্ছে তারা যেন নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। এদিকে যেন ইসি নজর দেয় সেটাও বলা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয় কমানো, পেশি শক্তি ও ক্ষমতার খেলা, অর্থের খেলা এসব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব দাবি তারা লিখিতভাবে সব নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে নারীরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি এবং নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা নারী অফিসারদের নিরাপত্তার কথাও বলা হয়েছে।