কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সদ্যবিদায়ী মেয়র ও সাবেক বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আগামী মঙ্গলবার তিনি কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

সাক্কু বলেন, আমার বয়স হয়ে গেছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবারই শেষ নির্বাচন। ভব্যিষতে আর নির্বাচন করব না। গত ১০ বছর ধরে মেয়রের চেয়ারে আছি, এই সময়ে অনেক উন্নয়ন করেছি। উন্নয়ন কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমার এখনও অনেক কাজ বাকি। তাই তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করতে চাই। কুমিল্লাকে একটি মডেল সিটিতে পরিণত করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এই নির্বাচনে আসবে না। তাই নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। কুমিল্লার মানুষ ও আমার কর্মী-সমর্থকদের অনুরোধে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। মঙ্গলবার ফরম জমা দেব।’

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম কুমিল্লা সিটির নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে প্রথমবার এবং ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু।

সোমবার ছিল মনিরুল হক সাক্কুর দায়িত্ব পালনের শেষ দিন।  এদিন দুপুর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি নগর ভবনে ব্যস্ত সময় কাটান। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেন তিনি। 

পরে তিনি কুসিকের প্রধান নির্বাহী ড. সফিকুল ইসলামের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় কুসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাকে বিদায় জানানো হয়। বিকাল ৫টার দিকে সাক্কু নগর ভবন থেকে বের হয়ে আসেন। 

কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে ‘অনেকটাই সফল হয়েছেন’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সরকারিভাবে একনেক থেকে প্রায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়েছি। এ বরাদ্দ দিয়ে আধুনিক নগর ভবন প্রতিষ্ঠা, পুরাতন গোমতী নদীতে হাতিরঝিলের ন্যায় বিনোদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, সদর দক্ষিণে বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে আমি এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পর কুমিল্লা নগরী হবে দেশের মধ্যে একটি আকর্ষনীয় মডেল নগরী।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৯২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ ও নারী ১ লাখ ১৬ হাজার ১৯১ জন। ১০৫ ভোটকেন্দ্রের সবকটিতে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে।  

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৭ মে ও মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ২০-২২ মে পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৩-২৫ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২৭ মে।