পঁচাত্তরের পনের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘খুনিদের অভয়ারণ্যে’ পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সেই খুনিদের অভয়ারণ্যে মানুষের জন্য মুক্তির দূত হয়ে দেশের মাটিতে পদার্পণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।’

বুধবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচান সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এই আলোচনা সভা এবং শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সে সময় নেত্রী শেখ হাসিনা চিৎকার করে কাঁদতেও পারেননি। কারণ সে সময় একদিকে খুনি মোস্তাক ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ খুনিদের এক অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছিল, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী গোলাম আযম এবং কাদের মোল্লাদের ঘুম, খুনের অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশে।’

তিনি বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমান সেদিনও নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসতে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু সাহসী নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি দেশে ফিরে যাব। মৃত্যু যদি হয়, বাংলাদেশের মাটিতেই আমার মৃত্যু হবে।’

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘১৯৮১ সালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের নির্মাতা হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে। এরই মধ্যে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই দায়িত্বভার গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জীবন নিয়ে সব শঙ্কাকে তুচ্ছ করে নিজ দেশে তিনি ফিরে আসেন।’

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে- উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে নাছিম বলেন, ‘ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্ত করতে হবে।’ 

অনুষ্ঠানে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব কে এম শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।