ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে হঠাৎ করে সরকারের ঋণ বেড়েছে। শুধু গত এপ্রিল মাসে ব্যাংক খাত থেকে নিট ২৪ হাজার ১১৯ কোটি নিয়েছে সরকার। এতে করে চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে যা ছিল মাত্র ৮ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের তুলনায় সরকারের ভর্তুকি বেড়েছে। আবার অর্থবছরের শেষ সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ব্যাংক ঋণ বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। গত জুন শেষে যা ২ লাখ ২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ছিল। গত ১০ মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণ ২৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা বেড়ে ২ লাখ ২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা বেড়ে ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। অবশ্য ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অর্থবছরের শেষ দিকে সব সময় সরকারের ব্যয় বেশি হয়। রাজস্ব আয় দিয়ে যা মেটানো সম্ভব হয় না। যে কারণে শেষ দিকে ঋণ হয়তো বাড়ছে। এবার সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ কম পাচ্ছে। এতে করে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ বাড়তে পারে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই এখন মূল্যস্ম্ফীতি বাড়তির দিকে। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অস্বাভাবিকভাবে ঋণ বাড়লে মূল্যস্ম্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ঋণের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। এটা যদি সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে খরচ হয়, তাতে সমস্যার কিছু নেই।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩২ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে সরকার এ খাত থেকে পেয়েছে ১৬ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি টাকা ছিল।

বেড়েছে বিদেশি ঋণ: বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎসের পাশাপাশি বিদেশ থেকে ঋণ নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে ৬৮০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৩৮ কোটি ডলার। এর মানে, বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২৪২ কোটি ডলার বা ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আবার রাজস্ব আয়েও ভালো প্রবৃদ্ধি আছে। গত মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৮ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ৭৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। রাজস্ব আয় বেড়েছে ২৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছর অবশ্য মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।