ইভিএম নিয়ে যখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিতর্ক চলছে; রেফারির ভূমিকায় থাকা নির্বাচন কমিশনও এ নিয়ে কথা বলছে। তখন আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরাও থেমে নেই। পত্রিকায় কলাম লিখে, টেলিভিশন টকশোতে তাঁদের মত প্রকাশ করছেন। ১১ মে সমকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খানের 'ইভিএম কিংবা ঘোড়ার আগে গাড়ি' শিরোনামে একটি নিবন্ধ পড়লাম। সেখানে তিনি ইভিএমের আগে নির্বাচনী বিতর্কের সমাধান চেয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশে ইভিএম সমস্যার সমাধানও কম জরুরি নয়। যদি ইভিএমের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়, সেটা গণতন্ত্রের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করি। আর যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে নিরাপদ মনে করেন, তাদের সঙ্গে আমি একমত নই। এ দেশে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিজয়ী দল অভিনন্দন জানালেও পরাজিত দল নির্বাচনকে সূক্ষ্ণ-স্থূল কারচুপির অভিযোগ তুলে কলঙ্কিত করেছে। এম হাফিজ উদ্দিন খান উপদেষ্টা ছিলেন। তাঁর সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারও সেই বিতর্ক এড়াতে পারেনি।
প্রশ্ন হলো- ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইভিএম নিয়ে বিতর্কের অবসান এখনও হয়নি কেন? অথচ চাইলে এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারতেন। পারতেন তাঁদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। সারা পৃথিবী যখন প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার নীতিতে অটল, সেখানে আমাদের এই দ্বিধা, অবিশ্বাস কেন? ইভিএম বিতর্কে যেসব ত্রুটি রয়েছে কিংবা ইভিএমে কারচুপি বাড়বে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সে অভিযোগের সত্যতা যদি থেকেই থাকে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর করার লক্ষ্যে যেভাবে কাজ করলে ভালো হয়, আমাদের সেভাবেই করতে হবে। যেহেতু দিন দিন আমরা প্রযুক্তির শিকলে আবদ্ধ হচ্ছি, সেই হিসেবে এ প্রযুক্তিকে আজ না হয় কাল ধরতেই হবে। যদি ইভিএমের মধ্যে আসলেই ত্রুটি থেকে থাকে তাহলে তা ত্রুটিমুক্ত করতে হবে।
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা