নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালীন সময় এলাকায় থাকা কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, এটি আমার দৃষ্টিতে পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজ। এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করব না।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রথম অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

এদিন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩২টি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ ও ৪৪টিতে উপনির্বাচন, পাঁচটি পৌরসভা ও একটি উপজেলা পরিষদে সাধারণ এবং তিনটি উপজেলা পরিষদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি স্থানে ব্যালটে ভোট নেওয়া হলেও কুমিল্লা ও ৫ পৌরসভাসহ বেশিরভাগ স্থানেই ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়

রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও ইভিএমে ভোট নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, কেউ কেউ ইভিএম নিয়ে তাদের অসুবিধার কথা বলেছে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে।

ভোটের পরিবেশ দিনভর নজরে রাখার বিষয়টি জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। প্রথমবারের মতো সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোনো ধরনের অভিযোগ ও গোলযোগ ছাড়া নিজেদের মেয়াদের প্রথম নির্বাচন শান্তিপূর্নভাবে শেষ হওয়ার পর মূল্যায়নের ভার সবার উপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার ভাষ্য, আমরা শুধু আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। পাশ-ফেলের বিশ্লেষণ তো অন্যরা করবেন।

বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান কাজী হাবিবুল আউয়াল।

এ সময় কুমিল্লার এমপি বাহারের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিনের বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করেছি, আপনারাও করেছেন। নির্বাচন (কুমিল্লা সিটি নির্বাচন) শেষ হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। আমার দৃষ্টিতে এটা পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের প্রচারণাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিনকে চিঠি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তিনি সেই নির্দেশ মানেননি। বরং বাহাউদ্দিন অভিযোগ তোলেন, সেই চিঠির ভাষা ঠিক ছিল না এবং তা (ইসির) এখতিয়ারবহির্ভূত।

এদিকে কুমিল্লা সিটিতে ৮০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ঢাকায় বসে এসব ক্যামেরারা ফুটেজ নজরদারি করা হলেও এতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কিছু ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে ইসি। এদিন কুমিল্লার পাশাপাশি আরও পাঁচ পৌরসভার ভোটে ৫০০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় স্থানীয়ভাবে ও দূর থেকে ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।