সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বুধবার তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। যাঁকে অন্যায়ভাবে, মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনিই আমাদের নেতা। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের নেতা। এখানে কোনো প্রশ্ন নেই, দ্বিধা নেই, সংশয় নেই। এটা খুব স্পষ্ট।

বিএনপির এই নেতৃত্ব প্রসঙ্গ কেন বারবার সামনে আসছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনা নিজেকে প্রমাণ করতে চান- আওয়ামী লীগে তিনিই একমাত্র নেত্রী। তাঁর বাইরে আর কেউ নেতৃত্ব দেওয়ার নেই। সেটাকে সামনে আনার জন্য বারবার বিএনপিকে টেনে সামনে আনছেন। আসলেই তো শেখ হাসিনা ছাড়া আগামীতে এই দলটির কোনো নেতা নেই।

তারেক রহমান লন্ডনে নাগরিকত্ব নিয়েছেন- এমন বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ডাহা মিথ্যা কথা। তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তার পাসপোর্ট যখন নবায়ন করা হচ্ছিল না, তখন তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনোই নাগরিকত্ব নেননি।

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মাওয়া প্রান্তে সেতুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং জাপান সরকারকে পুনরায় মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে সেতুর জন্য সমীক্ষা করতে বলে- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য তাঁর যে স্বভাবসুলভ বক্তব্য, সেই বক্তব্যের মধ্যে তিনি যে মিথ্যাচার করেন, তার প্রমাণ আবার রেখেছেন।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ৩ মার্চ জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সির পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। ফিজিবিলিটি রিপোর্ট অফিসিয়ালি দেওয়ার পরেও কী করে প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন যে, বিএনপি সরকার আসার পর এটাকে বন্ধ করে দেয় এবং কোনো কাজ করেনি। এই ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তখনই এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফান্ড তৈরির আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে সেটা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ প্রধানমন্ত্রী সমানে বলে যাচ্ছেন- বিএনপি সরকার এটা বন্ধ করে দিয়েছিল।

মির্জা ফখরুল সমীক্ষার বিবরণী তুলে ধরে বলেন, এই সমীক্ষার সামারিতে বলা হয়েছে যে, এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার, প্রস্থ ২৫ মিটার, পাইলের সংখ্যা ২৬৮টি, নদী শাসন ১৬ দশমিক ৩০ কিলোমিটার, সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য (উভয় পাশে) ১২ দশমিক ১৬৩ কিলোমিটার। ২০১৫ সালে মাওয়া-জাজিরা অবস্থানে পদ্মা সেতু দিয়ে দৈনিক ২১ হাজার ৩০০টি যানবাহন পারাপার করবে এবং ২০২৫ সালে হবে ৪১ হাজার ৬০০টি। এই সেতুর নির্মাণকাজ ২০০৮ সালের অক্টোবর নাগাদ শুরু এবং ২০১৩ সালের মার্চ নাগাদ শেষ হবে। এটাই পদ্মা সেতু তৈরির মূল ভিত্তি ছিল। এটাকেই কেন্দ্র করে তারা পদ্মা সেতুর পরবর্তী কাজ করেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সমীক্ষা অনুযায়ী মাওয়া-জাজিরা অবস্থানে পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮৫৮৭ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা। নকশা প্রণয়ন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ ও জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করার পর ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, সেতু নির্মাণে সময় লাগবে প্রায় ৫৪ মাস। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেদের লুটপাট আড়াল করার জন্য, সময়ক্ষেপণ এবং ব্যর্থতা অন্যদিকে নেওয়ার জন্য বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে দিতে চাইছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।