আকস্মিক বন্যায় নাকাল সিলেট ও সুনামগঞ্জ। এসব এলাকায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পাওয়া ছাড়াও আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং প্রভাবশালীরা দিনরাত বানভাসিদের জন্য কাজ করছেন। তাঁদের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, সিলেটের ৬ এবং সুনামগঞ্জের ৫টি মিলিয়ে ১১টি সংসদীয় আসনে বন্যা হয়েছে। বিগত নির্বাচনে এসব আসনের তিনটি শরিকের জন্য ছেড়ে দেয় বিএনপি। শরিক দলের নেতারাও ত্রাণ তৎপরতায় রয়েছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি নজির হোসেন ও কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে সাবেক এমপি নাছির চৌধুরী ত্রাণ কার্যক্রম করছেন। তবে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জোটের প্রার্থী শাহিনুর পাশা চৌধুরী ও লন্ডন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমেদ বাইরে থাকায় তাঁদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এখানে বিএনপির স্থানীয় নেতা ফারুক আহমেদও দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দেওয়ান জয়নাল নেতাকর্মীদের নিয়ে ত্রাণ দিচ্ছেন। এখানে গত নির্বাচনে দলের প্রার্থী ফজলুল হক আসপিয়া মারা গেছেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মিজানুর রহমান চৌধুরী বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।

সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী ও সিলেট-২ আসনে গণফোরাম একাংশের নেতা মোকাব্বির খান এমপি শুরু থেকেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন। মোকাব্বির খান জানান, তাঁর সংসদীয় এলাকায় ভয়াবহতার কারণে ইসির মতবিনিময়েও অংশ নেননি। তবে তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কোনো সংযোগ নেই। এখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার অনুসারীদের নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা সমকালকে বলেন, এখন তো সিলেটে ইচ্ছা করলেও যাওয়া যাচ্ছে না। শুরু থেকেই ছেলে মানুষের পাশে রয়েছে। পানি একটু কমলে আমিও যাব।

সিলেট-৩ আসনে শফি আহমদ চৌধুরীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বন্যার্তদের জন্য কাজ করছেন। সিলেট-৪ আসনে দিলদার হোসেন সেলিম মারা যাওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামান জামান তৎপর। সিলেট-৫ আসনে নির্বাচন করেছিলেন জমিয়তে উলামায়ের নেতা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি ছাড়াও বিএনপি নেতা আশিক উদ্দিন চৌধুরী ত্রাণ কার্যক্রমে রয়েছেন। আর সিলেট-৬ আসনে ফয়সাল চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম কাজ করছেন। ব্যক্তি উদ্যোগেও বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেকে শতাধিক নৌকায় প্রতিদিন শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন।

সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন সমকালকে বলেন, শুরু থেকেই নেতাকর্মীরা উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, এখানে ভয়াবহ অবস্থা। খাবার নেই, বিদ্যুৎ নেই, চিকিৎসা নেই। ত্রাণ কার্যক্রমের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও তাঁরা দুর্গতদের পাশে রয়েছেন।

বিএনপির ত্রাণ কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বানভাসিদের দোরগোড়ায় সহায়তা পৌঁছে দিতে তাঁরা কার্যক্রম জোরদার করেছেন।