বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদী পদ্মার ওপর সেতুর উদ্বোধনের ঠিক আগ মুহুর্তে সুধী সমাবেশে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই সেতু বঙ্গবন্ধু পরিবার ও বাঙালিদের অপমানের প্রতিশোধ।

শনিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে দেশের বৃহত্তম এ সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

বিতর্ক আর সমালোচনার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুর উদ্বোধনের দিনে মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গোটা জাতি আপনাকে স্যালুট করে। সারাবিশ্বে আজ আপনি প্রশংসিত। আপনি প্রমাণ করেছেন-ইয়েস উই ক্যান। নিজের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাথা নত করেনি।

এক দশক আগে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করলেও দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে অর্থায়ন থেকে সরে যায় বিশ্ব ব্যাংক। সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে সাময়িক শাস্তির মুখে পড়তে হয় তখন। এমনকি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও তখন দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জন ওঠে।

এসব ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, কী দুঃসময়, কী চ্যালেঞ্জ, কী কঠিন সময়। সবকিছুকে অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আমরা বীরের জাতি। শেখ রেহানার কী অপরাধ ছিল। জয়ের কী অপরাধ ছিল, পুতুলের কী অপরাধ ছিল, ববির কী অপরাধ ছিল। একটা পরিবারকে টার্গেট করে অপমান করা হয়েছে। বাঙালি জাতিকে অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা দুর্নীতির অপবাদ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিবার, সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সচিব অনেককে অপমান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমি মনে করি সক্ষমতার প্রতীক, এটা সত্য। তার চেয়ে বড় সত্য আমরা আমাদের প্রতিশোধ নিয়েছি।

খরস্রোতা পদ্মায় নদীশাসনসহ সেতু নির্মাণের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ বার বার মনে পড়ে এই পদ্মাপাড়ে মাওয়া, লৌহজং, জাজিরা, শিবচরে ভাঙন। কাজ শুরু করাই ছিল চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা না থাকলে এতসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে পারতাম না। চায়না মেজর ব্রিজের মালামাল পর্যন্ত নদীতে ভেসে যাচ্ছিল। আমি আজকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি, শেখ হাসিনার মুখের দিকে চেয়ে পদ্মার দুই পাড়ের মানুষ নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি ত্যাগ করেছিল।

আবেগ ভরা কণ্ঠে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সেতু নির্মাণে অন্য কারও কোনো কৃতিত্ব নেই। একমাত্র কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। তার নামে পদ্মা সেতুর নাম হওয়ার কথা ছিল। সারাবাংলার দাবি ছিল এটা। কিন্তু তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

এই সেতুর কাজ শুরু হতে না হতেই ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দেশ ও দেশের বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে বাদ রেখে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। প্রমত্তা পদ্মার বুকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু নির্মিত হয়।