জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ঈমাম তার নির্বাচনী এলাকায় মাদ্রাসার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে জানিয়ে বলেছেন, ‘মাথা থেকে পা পর্যন্ত বোরকার ভেতরে তারা (ছাত্রীরা) থাকে। তারা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাদ্রাসায় থাকে। আমার মনে হয় না সেখানে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান শেখানো হয় কিংবা কিভাবে সংসার করতে হবে সেটা শেখায়। অন্য কিছু শেখায়। শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যারা আছেন তাদের এটা  দেখতে হবে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। 

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্য বইয়ে একটি ধর্মগ্রন্থকে বাদ দিয়ে অন্য একটি ধর্মগ্রন্থকে প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, এর মাধ্যমে সংস্কৃতি বদলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এইগুলো কীসের আলামত? 

ফখরুল ইসলাম বলেন, করোনার সময়ে সাধারণ শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ারা মাদ্রাসায় গেছে। যে মাদ্রাসাগুলোতে এক’শ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে হয়। সেখানে গরীব ছেলেমেয়েরা ভর্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, কওমী মাদ্রাসা খুলতে কারো সম্মতি নিতে হয় না। কিন্তু অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারমিশন নিতে হয়।

তিনি বলেন, ‘একটা মাদ্রাসায় কী হয়? ওয়ান-টুতে যারা পড়ে ভোর সাড়ে ৪টার সময়ে উঠে যায়। তারপর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তারা পড়ে। কী পড়াশুনা করে তা জানিনা। সেখানে সিলেবাস ছাড়া অনেক কিছু পড়তে হয়। বেশি ভয়াবহ হচ্ছে মহিলা মাদ্রাসা। এই মহিলা মাদ্রাসা এত বিস্তৃত। আমার এলাকায় সব জায়গায় সকাল বেলা উঠে দেখি- এদের চেনা যায় না। মাথা থেকে পা পর্যন্ত বোরকার ভেতরে এনারা থাকে। তারা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাদ্রাসায় থাকে। আমার মনে হয় না সেখানে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান শেখানো হয় কিংবা কিভাবে সংসার করতে হবে সেটা শেখায়। অন্য কিছু শেখায়। আমার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যারা আছেন তাদের এটা দেখতে হবে।’ 

ফখরুল ঈমাম বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘সবাই মিলে কাজ করি’ শিরোনামে মহানবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে ‘খলিফা আবু বক্কর’ শিরোনামে সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে খলিফা হযরত ওমরের সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে ‘বিদায় হজ্ব’ শেষ নবীর জীবনী একটা ছিলো সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন,‘ পঞ্চম শ্রেণিতে ‘বই’ নামে একটা কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটা ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআ্ন বিরোধী কবিতা। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লাল গরু’ নামক একটি ছোট গল্প আনা হয়েছে। যা মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে মায়ের মতো। তাই গরু জবাই করা ঠিক নয়। অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ। সপ্তম শ্রেণির বইতে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যয়ের ‘লালু’ নামক একটা গল্প ঢুকানো হয়েছে। যাতে শেখানো হচ্ছে হিন্দুদের কালিপূজা ও পাঠবলির কাহিনী। অষ্টম শ্রেণির বইতে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ অর্থাৎ রামায়ণের সংক্ষিপ্ত রূপ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এইগুলো কীসের আলামত? তিনি বলেন, এসব শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই দেখতে হবে। 

ফখরুল ইমামের বক্তব্যের পরে জাতীয় পার্টির আরেক এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মেয়েরা বোরকা পড়ে মাদ্রাসায় লেখা পড়া করে। তাদের তো ইসলামিক ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। একজন কুরআনের হাফেজ হতে হলে মিনিমাম ৮ ঘণ্টা পড়াশুনা করতে হয়। এটা ধর্মীয় শিক্ষা। সেখানে খোঁচা মারার তোর দরকার নেই। আধুনিক শিক্ষা বানাবেন-হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরায় ছেড়ে দেবেন তা তো হবে না এদেশে। এগুলে বাদ দিয়ে আসল শিক্ষায় আসেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হাতে সিগারেট দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাতে কাপ আর সিগারেট। ছেলে-মেয়ে হাত ধরাধরি করে হাঁটাহাঁটি করছে, আর সিগারেট খাচ্ছে। এটা কোন সংস্কৃতিতে পড়ে? কোন শিক্ষায় পড়ে? শুধু শিক্ষার মান নয়, নৈতিকতাও কমেছে। এদিকে নজর দিতে হবে।