ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় বন্যার্তদের মধ্যে বিএনপির ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি সভায় শুক্রবার বিকেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় কমপক্ষে ১৪-১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফেনী সদর হাসপাতালে চারজন ও অন্যদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে ফুলগাজীর দৌলতপুর বন্যাকবলিত এলাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ত্রাণ প্রদানের কর্মসূচি রয়েছে। কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় আজ বিএনপির ত্রাণ বিরতণস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে পেট্রোল পাম্প চত্বরে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ প্রস্তুতি সভা চলছিল। সভা শুরু হওয়ার পর ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন মজুমদার ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরাম পাটোয়ারীর নেতৃত্বে ৫০-৬০ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করেন। হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও নেতাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। হামলায় কমপক্ষে ১৪-১৫ জন আহত হন। হামলার পর আহতদের ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পথে ওত পেতে থাকা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ আহত ও তাঁদের উদ্ধার করা নেতাকর্মীদের ওপর ফের হামলা করে।

তারা আরও জানান, বিএনপি কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গ্রামের পথ ধরে আহতদের নিয়ে ফেনী চলে আসতে হয়। আহতদের মধ্যে বাবু, আবু, কামলা ও শাহীনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও অন্যদের ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল গোলাপ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা শাহিন, আকবর হোসেন, যুবদল নেতা মোহাম্মদ দিদার ও রবিউল হক বাবু।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার অভিযোগ করেছেন, ঘটনাস্থলের পাশেই ফুলগাজী থানা। পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ করলে এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব ছিল না। ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল সমকালকে জানান, সভায় জেলা বিএনপি'র আহ্বায়কসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চাল।

এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষের আগে ফুলগাজী সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মিজান কোম্পানীর ওপর হামলা করে বিএনপি কর্মীরা। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুবলীগ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারও সভা পণ্ড করতে হামলা করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

অবশ্য ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন জানান, সম্পূর্ণ বিনা উস্কানীতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের সভায় শস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুব লীগের সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে ফুলগাজী থানার ওসি মঈন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ এখনও মামলা করতে আসেনি। পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হামলা শুরু হলে ফুলগাজী বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বাজারে আসা ক্রেতারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।