প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে পূর্ণিমা রাতে পদ্মা সেতুতে যেতে চান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজের এমন ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, হাজী সেলিমকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারেন; কিন্তু খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু দেখতে যেতে দিতে পারেন না। কাজটা করলে আপনাদেরই বেশি লাভ হতো। তিনি বলেন, 'এখনও সময় আছে, এক পূর্ণিমা রাতে চলেন না যাই পদ্মা সেতু দেখতে। আপনার গাড়ি সামনে, পরে খালেদা জিয়ার গাড়ি, আর তার পেছনে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে থাকবে। গাড়ি চালিয়ে আস্তে আস্তে যাব।'

'হয়রানিমূলক মামলায় রাজবন্দি ও ধর্মীয় নেতাদের দীর্ঘ কারাবাস নাগরিক সমাজের উদ্বেগ' শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে গণমতামত কেন্দ্র নামে একটি সংগঠন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দুই দিনের মধ্যে সব আলেম, রাজনৈতিক কর্মী, খালেদা জিয়াসহ সবাইকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় তৈরি হোন। ১০ হাজার লোক নিয়ে হাইকোর্ট ঘেরাও করব। ওদের জামিন ছাড়া এবার হাইকোর্টে কোনো ঈদ জামাত হবে না। হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ আলেম-ওলামাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আলেম-ওলামাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। এই মুক্তির জন্য লড়াইকে যতদূর নেওয়া উচিত ততদূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে রাজি আছি। হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকারের সঙ্গে নূ্যনতম আপস করে যারা আন্দোলন করবে, তাদের সঙ্গে আমরা নেই। আপনারা শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছেন। তিনি এ বিশেষণে বিশেষায়িত হতে পারেন না।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ প্রমুখ।