নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধের পায়ুপথে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি স্থানীয় যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার মামলা হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে উপজেলার থানার হাট বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল হোসেন ওরফে শাহ নেওয়াজ উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

নির্যাতনের শিকার শেখ নাসির উদ্দিন মাইজভান্ডারীর ছেলে চর ওয়াপদা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ রিপন রোববার রাতে চর জব্বার থানায় মামলাটি করেন। এতে শাহ নেওয়াজকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে মসজিদ নির্মাণে চর ওয়াপদা ইউপি চেয়ারম্যান এবং সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধ থেকেই এ নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হলেও মামলায় তাঁর নাম নেই।

এ নিয়ে বাদী বলেন, মামলা লিখেছে পুলিশ, স্বাক্ষর করেছি আমি। তাই চেয়ারম্যানকে আসামি করার বিষয়টি বলতে পারছি না। তবে তদন্তে চেয়ারম্যানের নাম আসবে বলে আশা করছি।

নির্যাতনের শিকার শেখ নাসির উদ্দিন সোমবার সমকালকে জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলমের অর্থায়নে ইউনিয়নের চর বৈশাখী গ্রামে অর্ধকোটি টাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন তিনি। ওই মসজিদের ঠিকাদারি চেয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং তাঁর অনুসারী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তানভীর উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা শাহনেওয়াজ। তিনি নিজে তদারকি করায় পরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই পক্ষ। এ নিয়ে বিরোধে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের ধরে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের অনুসারী তানভীর, দিদার, খোকন, সালা উদ্দিন, শাহনেওয়াজ, বোরহান উদ্দিনসহ ১০-১২ জন। পরে তাঁর পায়ুপথ দিয়ে একটি টর্চলাইট ঢুকিয়ে দেয় তারা। রোববার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টর্চটি বের করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, মসজিদ নির্মাণকাজের ঠিকাদারি কিংবা কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করেননি। কে করেছে, তাও তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে চর জব্বার থানার ওসি দেবপ্রিয় দাশ বলেন, গ্রেপ্তার শাহনেওয়াজকে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।