আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা না দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশ্য এ নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সংগঠনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক জেলার মর্যাদাসম্পন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। গত ২৮ জুন কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশনা দেন সংগঠনের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু। ওই দিনই এই সিদ্ধান্তের কথা ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইসহাক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদকে জানিয়ে দেওয়া হয়। বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় এত দিন বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু আলোচিত দুই সাংগঠনিক জেলার কার্যক্রম স্থগিতের কথা স্বীকার করে সমকালকে বলেছেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারায় তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে দুই শাখার কার্যক্রম আবারও চালু হবে।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হলেও মহানগর দক্ষিণের কমিটিই গঠন করা হয়নি। গত ১০ মে মহানগর উত্তরের ১৫৬ সদস্যের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সেটি সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। গঠনতন্ত্রে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা বলা হলেও উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার চেয়েও অনেক বেশি নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে পাঠান। অন্যদিকে, বারবার তাগাদার পরও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দুই শীর্ষ নেতা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে গরজ দেননি। দুই শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিহীনতাসহ নানা অভিযোগও চলে আসছিল।

কয়েকজন নেতা জানান, সম্মেলনের আড়াই বছর পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের চার শীর্ষ নেতা। এরই মধ্যে তিন বছরের নির্ধারিত মেয়াদও পার হয়ে আরেকটি সম্মেলনের সময় ঘনিয়ে গেছে। ঢাকা মহানগরের দুই অংশের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটিগুলোর সম্মেলনও ঠিকমতো হয়নি। ফলে মহানগরের উভয় অংশে সংগঠনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এ অবস্থার জন্য উত্তর ও দক্ষিণের চার শীর্ষ নেতার দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইসহাক মিয়া প্রথমে দুই শাখার কার্যক্রম স্থগিতের কথা অস্বীকার করেন। পরে বলেন, 'এটা তো আমাদের উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক চারজনের নামে পাঠানো ব্যক্তিগত চিঠি, যা আসলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য আমাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ হয়তো বা আমাদের হেয় করার জন্য ব্যক্তিগত এই চিঠি ফেসবুক, হোয়াটসআপ অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।'

২০১৯ সালের ১১ ও ১২ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।