নড়াইলের দিঘলীয়ার সাহাপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের গ্রুপিংকেই দায়ী করছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার নড়াইলের ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শন করে আসা দলীয় তদন্ত টিমের আহবায়ক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এই অভিযোগ করেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, নড়াইলের ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটি সাম্প্রদায়িক ঘটনা। তাদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই সংখ্যালঘুদের একটি সহজ উপাদান হিসেবে নির্যাতন করা হয়। অন্যান্যা জায়গার মতো নড়াইলেও একই ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন-হামলা-লুটপাট-ভাংচুরের ঘটনাগুলো বেড়ে যায়। সংখ্যালঘুদের বেশিরভাগ সম্পত্তির মালিক এখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। গণতন্ত্র না থাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে বিশেষ করে হিন্দু মানুষজনকে গৃহ থেকে, জমি থেকে উচ্ছেদ করে, তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের সম্পদ দখল করা হচ্ছে। এটাই আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য হয়ে আছে।

নড়াইলের ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাঁকুরগাওয়ে রাজবংশী সম্প্রদায়ের এক লক্ষ ৭ হাজার ভোটার আছেন। এখানে আওয়ামী লীগ তাদেরকে মনে করে এরা তাদের লোক, রাজবংশী সম্প্রদায় তাদের সম্পত্তি। তাদের যা ভোট তা আওয়ামী লীগকে দিতে হবে। আবার অত্যাচার-নির্যাতন, তাদের সম্পদ লুটও তারাই করবে। দু:খজনক হচ্ছে যে, আজ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দেখতে পাইনি।

তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৫ জুলাই হঠাৎ করে প্রায় ২০০-৩০০ উশৃঙ্খল লোকজন সাম্প্রদায়িক স্লোগান দিয়ে নড়াইলের সাহাপাড়ায় প্রবেশ করে ১০/১২ টি বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়, আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। মন্দিরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙে। তার অদূরেই পুলিশ শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ওই গ্রামে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান। এই ঘটনায় তিনিও নির্বিকার ছিলেন। কারণ যে চেয়ারম্যান হয়েছে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী কিভাবে পাস করলো এটা নিয়েই মূলত দ্বন্দ্ব। দিঘলীয়া গ্রামের ৭০ ভাগ হিন্দু ভোট। হিন্দুরা ভোট দিয়েছে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীকে। কেন দিলো ভোট? এখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

বর্তমানে নড়াইলের দিঘলীয়া গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে নিতাই রায় বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চলটি ছিল যশোর-নড়াইল-বগুড়া মুক্তাঞ্চল। ওই সময়ও এখানে এরকম ঘটনা ঘটে নাই। সেই গ্রামের ওপরে এরকম নির্মমতা সেখানকার লোকজন মর্মবেদনায় ভুগছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে ২২ জন ক্ষতিগ্রস্তের বাড়িঘর, দোকানপাটের তালিকা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্দির ভাংচুর করার বিষয়েও তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও নড়াইলের ঘটনার তদন্ত টিমের সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অমলেন্দু দাস অপু ও অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।