জনজীবনের অসহনীয় দুর্ভোগ বিবেচনায় না নিয়ে বৈদেশিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহবাগে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশে পুলিশি হামলায় আহত ছাত্র নেতাদের নামে করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ ও হামলায় নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা।

মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রাগীব নাঈম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরা, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মমিন বলেন, সারা দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। ছাত্র সমাজ তাদের অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে যখন এই ন্যায্য দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিনা উস্কানিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও লাঠিয়াল বাহিনীর এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটায় এবং গতকাল দুপুরে অনিক রায়, সালমান সিদ্দিকী, মশিউর রহমান রিচার্ড, জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, সাদেকুল ইসলাম সোহেল, আরিফ মঈন উদ্দিন, সুনয়ন চাকমা, তাওফিকা প্রিয়া, ফেরদৌস বাঁধন, জাওয়াদুল ইসলামসহ ২১ জন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা করে আসামি করা হয় অর্ধশতাধিককে।

নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিনা উস্কানিতে হামলা, আহত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের সরকারের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ জানিয়ে নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশেই যেকোনো সভা-সমাবেশে পুলিশি হামলা, বাধা প্রদান নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় আইনের যথেচ্ছাচারের মাধ্যমে সমস্ত ঘটনারই দায় চাপানো হচ্ছে আক্রান্তদের ওপর। 

যে পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে শাহবাগে হামলা হয়েছে তিনি ইতিপূর্বেও বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে তার সীমা লঙ্ঘন করেছেন জানিয়ে নেতারা আরও বলেন, হামলা-মামলা করে যৌক্তিক আন্দোলনের গতিপথকে রুদ্ধ করা যায় না। অবিলম্বে ছাত্র নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনের যথেচ্ছাচার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।